লালমনিরহাটে লোকালয়ে বাঘের হানা, আহত ৩
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
স্থানীয় জনতা সাহসিকতার সাথে শোরগোল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে এটি দূরে সরে যায়। ছবি: ভোরের কাগজ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি হিংস্র বাঘের আকস্মিক আক্রমণে তিনজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বন্যপ্রাণীটির আকস্মিক এই হানায় পুরো সীমান্তবর্তী জনপদে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি বিওপির আওতাধীন আমঝোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তর থেকে হুট করে একটি বাঘ বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে। ওই সময় সীমান্তবর্তী এলাকার মাঠঘাট ও ধানখেতের আশেপাশে মানুষের উপস্থিতি ছিল।
এদিকে আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা শহিদার রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগম (৩০) বিকেলবেলা নিজের একটি ছাগল খুঁজতে মাঠে যান। হঠাৎ ঘাসবন ও ধানখেতের আড়ালে তিনি বাঘটিকে দেখতে পান। বন্যপ্রাণীটির খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় বাঘটি তার ওপর চড়াও হয় এবং আক্রমণ চালায়।
শরিফা বেগমের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাঘটির উপর্যুপরি আক্রমণে একই এলাকার মৃত মনির হোসেনের ছেলে আফসার হোসেন (৪০) এবং নজরুল ইসলাম নামের আরও দুইজন গুরুতর জখম হন। স্থানীয় জনতা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে শোরগোল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে এটি কিছুটা দূরে সরে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহত তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কবে থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত উপ-মেডিকেল কমিউনিটি অফিসার মামুন রহমান ভোরের কাগজ সাংবাদিক কে জানান, বাঘের হামলায় আহত তিনজনের মধ্যে আঘাত বেশ গুরুতর। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় শরিফা বেগম ও আফসার হোসেন— এই দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর আহত ব্যক্তি নজরুল ইসলাম হাতীবান্ধা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সীমান্তবর্তী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সৃষ্ট ঘটনায় গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাব্বিরুল হক মনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বনচৌকি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এবং ১৫ বিজিবির অধিনায়কসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিজিবির কড়া নজরদারিতে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগের সাথে যৌথভাবে বাঘটিকে উদ্ধার বা নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা চলছে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকার ঠিক কোন ঝোপঝাড় বা স্থানে লুকিয়ে রয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বাঘটি ধরা না পড়া পর্যন্ত আমঝোল ও এর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষক এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনকে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি।
