মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আবারও সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়।
শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও সাভার-আশুলিয়া-জিরানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক। সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট দুই হাজার ১৩৪টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি কারখানা খোলা ছিল। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৬৭৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।
মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া, জিরানী বাজার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকার কারখানাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। এতে কাজ বন্ধ রাখা শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।
গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে উৎপাদন বন্ধ থাকে। এসব কারখানার সাত লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন।
নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি থেকে শ্রমিকরা বেরিয়ে যান। তবে চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ বা কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।
শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
