×

চট্টগ্রাম

সরকারের নির্দেশনার পর চন্দ্রনাথধামে ডিসি

Icon

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৭ এএম

সরকারের নির্দেশনার পর চন্দ্রনাথধামে ডিসি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথধাম এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সুউচ্চ চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘিরে যে চন্দ্রনাথধাম ও মঠ-মন্দির রয়েছে তার পবিত্রতা ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের নির্দেশ অনুয়ায়ী সব রকম পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা চন্দ্রনাথধাম মন্দির এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক এ মন্তব্য করেন।  

গত ২৭ আগষ্ট  স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ ঢাকায় রেলভবনে  সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র এই তীর্থভূমি রক্ষায় চন্দ্রনাথ ধাম স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ সরকারের তিন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। 

বৈঠকের পরই চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘিরে ‘উসকানিমূলক’ কার্যক্রম দেখামাত্র ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তদবর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা।

তাৎক্ষণিকভাবে তারা এমন নির্দেশনা দিয়ে মাঠ প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সজাগ থাকতে বলেছেন।

বৈঠকের তথ্য জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শ্রাইন কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং ধর্ম উপদেষ্টা আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।

মূলত সরকারের সেই নির্দেশনা পাওয়ার পরই চট্টগ্রামের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা চন্দ্রনাথধাম স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে যান। 

তবে সীতাকুন্ড ইকোপার্কেও ভেতর দিয়ে পাহাড়ি সড়ক ঠিক না থাকায় তারা চন্দ্রনাথধাম মন্দির পরিদর্শন করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন  স্রাইন কমিটির নেতা অশোক চক্রবর্তী। 

তিনি জানিয়েছেন, পরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগন সীতাকুণ্ডে ব্যসকুণ্ডের পাড় এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানেই চন্দ্রনাথধামের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষাসহ সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যাপারে আলাপ করেন। তবে এসব বিষয়ে পরবর্তীতে অঅরও অঅলাপ অঅলোচনা ও পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

তবে ব্যসকুণ্ডের পাড়ে দাড়িয়েই জেলঅ প্রশাসক ফরিদা খানম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই পবিত্র চন্দ্রনাথধাম মন্দির ও এর সংলগ্ন মঠ-মন্দিরসহ এর নিরাপত্তা ও রক্ষায় যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে বলে জানান।

তিনি বলেন, এই চন্দ্রনাথধাম মন্দির রক্ষায় আমরা সবাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেসে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই আমরা। এই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাসহ যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার নির্দেশিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এসময় স্রাইন কমিটির অন্যতম সংগঠক অশোক চক্রবর্তী, সৌমিত্র চক্রবর্তী, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তাবক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধামে অতি সম্প্রতি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার পর থেকে চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। 

চন্দ্রনাথ ধামে আরাধ্য দেবতা দেবাদিদেব শিবের পূজার সময় নানা কটূক্তি, ভক্তরা শিবের দর্শনে গেলে পেছন থেকে নানা রকম কু-বাক্য হরহামেশাই চলছে। সবমিলিয়ে এই তীর্থভূমিকে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, গত চার বছর ধরে এই তীর্থভূমি নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি তীর্থভূমিতে থাকা মন্দিরের পাশে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা এবং বিরুপাক্ষ মন্দিরে পূজার সময় নারায়ে তাকবীর শ্লোগান ফেসবুকে প্রচার হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

মন্দির তদারকের দায়িত্বে নিয়োজিত স্রাইন কমিটির অশোক চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে গত ২৭ আগষ্ট ঢাকায় তিন উপদেষ্টা ও ২৮ আগষ্ট চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হৃদ্যতাপুর্ন বৈঠকের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সরকার যথেষ্ট আন্তরিক এ ব্যাপারে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, হিন্দুদের পবিত্র এই তীর্থভূমির এমন পরিস্থিতি দেখে কেউ নীরব, কেউ সরব। ভেতরে ভেতরে এই তীর্থভূমি গিলে খেতে চায় দুবৃর্ত্তরা। মসজিদ তৈরির নামে সাম্প্রদায়িক হামলাও করতে চায় তারা। প্রশাসন এরই মধ্যে দুবৃর্ত্তদের সবরকম পরিকল্পনা জেনে যাওয়ায় তারা বিষয়টির সমাধানের পথে হাঁটছে। 

কারণ তারা দেখতে পাচ্ছে যে, সনাতনীদের এই তীর্থভূমি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি রয়েছ। কোন কারনে যদি এ তীর্থভূমির কোনো ক্ষতি হয় তা দেশের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনবে। 

শুধু প্রশাসনই নয়, যারা প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তার ধারক তারাও মনে করেন- এই তীর্থের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। এজন্য তারাও চান পবিত্র ভূমি চন্দ্রনাথ ধাম রক্ষা পাক।

অতি সম্প্রতি গত ১৫ আগস্ট এম এম সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরদিন তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। হেফাজতে ইসলামের নেতা হারুন ইজহারের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে ওই পোস্টে সাইফুল ইসলাম লেখেন, ‘সীতাকুন্ড পর্বতের চূড়ায় মসজিদ ৯০ শতাংশ কনফার্ম।’

ফেসবুকে ওই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কেউ কেউ মসজিদ নির্মাণে আর্থিক সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে ফেসবুকে আলোচনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। 

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মন্দিরের এলাকা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শ্রাইন কমিটি তখন বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতা হারুন ইজহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এরপর ১৭ আগস্ট ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন মুফতি হারুন ইজহার। সেখানে তিনি লেখেন, ঢাকার কিছু তরুণ আলেম উদ্যোক্তা ১৬ আগস্ট আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। আমি তখন সফরে বের হচ্ছিলাম, মাত্র কয়েক মিনিট কথা হয় তাদের সঙ্গে। 

সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ মন্দির এলাকায় কোনো মসজিদ নির্মাণের অভিপ্রায় তারা ব্যক্ত করেননি। শুধু বলেছেন, পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত কোনো জায়গায় একটা মসজিদ দরকার এবং এ বিষয়ে তারা অর্থায়নে আগ্রহী। আমি তাদের এর জন্য সাধুবাদ জানাই। 

আর আমিও মনে করি ইকোপার্ক অংশে মুসলিম পর্যটকদের সুবিধার জন্য ইবাদাতখানা নির্মাণের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে একটা উদ্যোগ নেয়া যায়।

এই আলোচনার মধ্যে গত ১৭ আগস্ট সীতাকুন্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও স্রাইন কমিটির নেতারা চন্দ্রনাথ পাহাড় পরিদর্শনে যান। 

পরিদর্শন শেষে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রনাথ মন্দির এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে মসজিদ নির্মাণের কোনো উদ্যোগের ‘প্রমাণ পাওয়া যায়নি’।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বিএনপি নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে খুন

বিএনপি নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে খুন

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মামলা

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মামলা

রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

বাগদান সারলেন দুবাইয়ের সেই আলোচিত রাজকন্যা

বাগদান সারলেন দুবাইয়ের সেই আলোচিত রাজকন্যা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App