লক্ষ্মীপুর
নিষেধাজ্ঞার ২৭ দিনেও খাদ্য সহায়তা মেলেনি জেলেদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারের ঘোষিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে। নিষেধাজ্ঞার ২৭ দিন পার হলেও এখনো সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল পাননি তারা। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। সংসার চালাতে ধার-দেনা, ঋণ ও দাদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জেলেদের। ঈদ সামনে রেখে তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছরই নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে জীবন কাটে তাদের। তবে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে সেই কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকের ঘরে খাবার নেই, বাজারে বাকিও বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলেরা বলছেন, মাছের প্রজনন রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন হলেও এ সময়ে সময়মতো সহায়তা না পেলে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। তাই দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়ে দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, এ বছর দীর্ঘমেয়াদি একধরনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন তারা। টানা প্রায় চার মাস ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছে। বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকারি সহায়তা বিতরণে বিলম্ব ও দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ঘাটে নৌকা বাঁধা, জেলেরা শুধু পাহারা দিচ্ছেন—চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা ২০ হাজার ১৫ জন। গত বছরের ১১ মার্চ জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, যা চলতি বছরও বহাল রয়েছে।
জেলার রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও সদর উপজেলার সমুদ্রনির্ভর জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এর মধ্যে রামগতিতে ১৭ হাজার ৮৬০ জন, কমলনগরে ১ হাজার ৮১৫ জন, সদর উপজেলায় ১২০ জন এবং রায়পুরের উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশীতে ২২০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিজন জেলেকে ৮৬ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। তবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত কোনো জেলেই সেই বরাদ্দ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জেলেদের জন্য ১ হাজার ১২০ টন খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ রয়েছে। কিছু প্রশাসনিক কারণে বিতরণে দেরি হয়েছে। তবে ঈদের আগেই সব সমুদ্রগামী জেলের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
