মিয়ানমার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের শব্দ ভেসে আসায় বুধবার (১ জুলাই) রাতে টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি নৌ টহল বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি চালানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসে। এতে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, নাইট্যংপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, প্রায় আট মাস পর আবারও সীমান্তের ওপার থেকে এমন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাত ৯টার পর একের পর এক বিস্ফোরণের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের উড়াউড়ির শব্দও শোনা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা সামি জাবেদ বলেন, বুধবার রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
একই এলাকার বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হলেই সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবির সদস্যরা নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে নাফ নদীতে নৌ টহল এবং ড্রোন নজরদারি আরও জোরদার করা হয়।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারের বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। তুমরু সীমান্তের বাসিন্দা সরওয়ার কামাল, বাইশফাঁড়ির শামশুল আলম ও চেরার মাঠ এলাকার ছৈয়দুল বশর জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং বোমা নিক্ষেপের বিকট আওয়াজ তারা শুনেছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত তাদের নিজস্ব বিষয়। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দিন-রাত টহল অব্যাহত আছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাখাইনের মংডু এলাকায় বিমান হামলার একটি ভিডিও রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি ঠিক কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বরও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে সীমান্ত পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।
