×

চট্টগ্রাম

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। তিন দিনের টানা বর্ষণে জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসন আরও পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দিনের বৃষ্টিতেও জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

এর আগে রোববার গভীর রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরের পৃথক স্থানে পাহাড়ধসে নয়জনের মৃত্যু হয়। এরপর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে মাইকিং শুরু করেছে। কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলায় প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিতে সদর, হ্নীলা, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং, সাবরাং ও সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

টানা বর্ষণে কক্সবাজার পৌরসভার নিম্নাঞ্চল, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কয়েকটি অংশ এবং উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দা ও হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থী নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে এক সপ্তাহ ধরে সেন্ট মার্টিন-টেকনাফ নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রবল বর্ষণে দ্বীপটির নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শত শত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলে ও দিনমজুরদের কাজও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনায় সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারী বর্ষণে কুতুবদিয়ার লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা, চৌফলদণ্ডী ও পিএমখালীর বিভিন্ন গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানিবন্দি নারী, শিশু ও বয়স্কদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

জেলার প্রধান দুই নদী মাতামুহুরী ও বাঁকখালীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, টানা বর্ষণ ও নিম্নচাপের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরে কাজ চলছে। যাতে আর কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘ছোট দেশ’ উল্লেখ করে ভারতকে সেরা সমর্থক বললেন নেতানিয়াহু

‘ছোট দেশ’ উল্লেখ করে ভারতকে সেরা সমর্থক বললেন নেতানিয়াহু

আংকারায় ন্যাটোর ৩৬তম সম্মেলন শুরু মঙ্গলবার

আংকারায় ন্যাটোর ৩৬তম সম্মেলন শুরু মঙ্গলবার

প্রতিপক্ষের ট্রল সইতে না পেরে ফাঁস নিলেন ব্রাজিলভক্ত

প্রতিপক্ষের ট্রল সইতে না পেরে ফাঁস নিলেন ব্রাজিলভক্ত

‘পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত ও বিয়ে করেই যাবে’

আমিরকে নিয়ে সালমান ‘পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত ও বিয়ে করেই যাবে’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App