সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি, থানচির তিন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ওইসব এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) থেকে এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে সাঙ্গু নদী এবং আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়ে গেছে। নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন জানান, তিন্দুর ‘বড় পাথর’ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতে ডুবে যায়। তবে নৌকার মাঝি আগেই সব পর্যটককে নিরাপদে তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় প্রায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে শুধু নাফাখুমেই প্রায় ৭০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। আটকে পড়াদের মধ্যে থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতিও রয়েছেন। নদীর পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের থানচি সদরে ফেরা সম্ভব হবে না।
তবে পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদী ও ছোট ছোট পাহাড়ি খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম ভ্রমণে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক ও গাইডদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ এবং নৌযান চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
