নদীগর্ভে বিলীনের পথে দৌলতপুরের শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি: যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে দৌলতপুরের চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা
যমুনার তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে বিলীনের পথে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। নদীভাঙন মাদ্রাসার সন্নিকটে পৌঁছে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যেই মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও ভবনের সামনের কিছু অংশ নদীতে ধসে গেছে। ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের নির্দেশে মাদ্রাসার আসবাবপত্র দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, যমুনার প্রচণ্ড স্রোতে নদীভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক। ভাঙনের এই গতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
মাদ্রাসা সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ জানান, “ইতোমধ্যে মাদ্রাসার বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভবনটি এখন মোটেও নিরাপদ নয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চেয়ার, টেবিল, আলমারি ও শিক্ষাসামগ্রীসহ মূল্যবান জিনিসপত্র দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে যেকোনো সময় পুরো মাদ্রাসাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”
ভাঙনের কারণ হিসেবে তিনি জানান, উজানের ঢল ও নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক দিনে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মাদ্রাসার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান দৈনিক ভোরের কাগজকে জানান, মাদ্রাসাটির ভাটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বাস্তবায়ন ছিল না। কারণ, মাদ্রাসাটি বালুচর এলাকায় অবস্থিত। মাদ্রাসার সামনে জিও ব্যাগের মাধ্যমে যে ২০০ মিটার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা মোটেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসার যেখানে ভাঙছে, সেখানে কোনো কাজ বাস্তবায়ন করা ছিল না। ভাটির অংশ দিয়ে পানির ব্যাপক ঘূর্ণনের ফলে এক রাতেই ১৫ থেকে ২০ মিটার ইউটার্ন নিয়ে মাদ্রাসার দেয়ালে স্রোত আঘাত করেছে। মূলত, ব্যাপক পরিসরে এবং নদীশাসনের আওতায় কাজ না করলে কোনো অবস্থাতেই স্থাপনাসমূহ স্থায়ীভাবে রক্ষা করা প্রায় সম্ভব নয়। বর্তমানে মাদ্রাসাটি রক্ষা করার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগের মাধ্যমে কাজ চলমান রেখেছে।
