টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কুয়াইশসহ একাধিক এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও তারও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীর হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকা। এসব এলাকার বহু বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির সামগ্রী ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে, প্যান্ট গুটিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা যায়। এ ছাড়া গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
আরো পড়ুন : ৪ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, নদীবন্দরে সতর্কতা
চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।
আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।
আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে অলিগলিতে শুধু পানি আর পানি। অনেক মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাসায়ও পানি ঢুকেছে। এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে জানি না।
মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলায় পানি উঠে গেছে। এখন কার্যত ঘরবন্দি হয়ে আছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু চলাচল নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরো কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
