কয়েক জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদীর পানি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাস স্বাক্ষরিত প্রধান অববাহিকা ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) জোনভিত্তিক নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে উভয় নদীই এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ দিনে এ অববাহিকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে আগামী দুই দিন পানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী তিন দিনে আবার বাড়তে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরো পড়ুন : ৪ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, নদীবন্দরে সতর্কতা
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি প্রায় স্থিতিশীল ছিল এবং সব নদীই বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ দিনে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় প্রথম তিন দিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর শেষ দুই দিনে বাড়তে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি কমেছে। তবে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি প্রথমে কিছুটা কমে পরে আবার বাড়তে পারে। তবে আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা ও ঘাঘট নদীর পানি আগামী তিন দিন বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। অন্যদিকে ঢাকা অঞ্চলের তুরাগ, টঙ্গীখাল, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা ও বালু নদীর পানি এ সময়ে প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার, ফেনী ও চট্টগ্রামের কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
