রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর গত দু দিন বৃষ্টি না হওয়ায় রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বরকল উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বাঘাইছড়ির কাচালং নদী ও রাইংখ্যং নদীর পানি নামার সঙ্গে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত চিহ্নও। রাস্তা ঘাট ও ডুবে যাওয়া দোকান গুলোতে কাদা মাটিতে ভরে গেছে। নতুন করে জীবন যুদ্ধ শুরু করেছে স্থানীয়রা।
এদিকে, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বরকল উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়ন বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম এসব এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
বাঘাইছড়ি উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমে গেলেও বেশী ভাগ এলাকা এখনো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যে সকল এলাকা পানি কমে গেছে সে সব স্থানে রাস্তাঘাট পরিস্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছে সাধারণ মানুষ। বন্যার পানিতে কমার সাথে সাথে মানুষজনকে নিজেদের বাড়ী ঘর মেরামতের বিষয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ফারুয়া ইউনিয়নের ১৬-১৭টি গ্রামের ১ হাজার ৩৪৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই তালিকাটা আরও বাড়বে।
বরকল উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভারী বর্ষণের ফলে এই উপজেলার প্রায় পাঁচটি ইউনিয়নেই বন্যা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরকল উপজেলাজুড়ে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং পুরো উপজেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, রোববার পর্যন্ত জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ১০৪৪টি পরিবার। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
