×

চট্টগ্রাম

গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রামের জনজীবন ও শিল্প

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রামের জনজীবন ও শিল্প

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন, শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমেছে, সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিংও বেড়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ এর তুলনায় অনেক কম। আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরো হ্রাস পাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক সব খাতেই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, চান্দগাঁও, চকবাজার, বাকলিয়া ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোরের পর থেকেই গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। ফলে অনেক পরিবার দুপুরের খাবার রান্না করছেন সন্ধ্যা বা গভীর রাতে। অনেকেই বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় স্টেশনগুলোতে অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন, এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন : মিয়ানমার থেকে পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস আনতে চায় সরকার

শিল্প খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানাসহ বিভিন্ন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কোথাও কোথাও কারখানাগুলো অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। এর ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প, ইস্পাত, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি বাড়ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, আবার কিছু কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এতে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যয় সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সময়ে রাজধানী ঢাকার চাহিদা মেটাতে চট্টগ্রামের প্রাপ্য গ্যাসের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত সরবরাহ রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কম থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি মেরামত করে চালু করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের এই সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরে অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, জনমনে ক্ষোভ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, জনমনে ক্ষোভ

জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি-গণভোট ফেরানোর প্রস্তাব

সংবিধানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি-গণভোট ফেরানোর প্রস্তাব

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App