আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন
সক্রিয় ছিনতাইকারি চক্র, আতঙ্কিত যাত্রীরা
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাঞ্চল রেলপথের আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রায়ই সংঘবদ্ধ ছিনতাই ও মলম পার্টির অপতৎপরতার কারণে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। রেলওয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্য ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করলেও এর স্থায়ী প্রতিকার না হওয়ায় এ পথে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন হয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী-চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ-চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তঃনগর, মেইল ও লোকান ট্রেন চলাচল করে থাকে।
অভিযোগ উঠেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি কিংবা চলন্ত ট্রেন থেকে একের পর এক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে রেলওয়ে স্টেশনে। ট্রেন কিংবা স্টেশনে ছিনতাইকারীদের ধরতে রেলওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কাউকে ছাদে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। চুরি, ছিনতাইয়ের শিকার যাত্রীরা অভিযোগ দিলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আদতে কোনো নজরদারি কিংবা পরিস্থিতির উন্নতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
সর্বশেষ বুধবার রাতে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে রাত আড়াইটার দিকে যাত্রাবিরতি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে ট্রেনের এক নারী যাত্রীর ভ্যানেটি ব্যাগ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ছিনিয়ে পালিয়ে যায়-এমনই ছিনতাইয়ের ঘটনার সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, শুধু এ ঘটনাই নয়, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন ও রেলওয়ে আউটার এলাকায় নিত্যদিন এমন ঘটনা ঘটলেও অধরাই থেকে যাচ্ছে চোর-ছিনতাই চক্রের সদস্যরা।
তবে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুস কুদ্দুস ভোরের কাগজকে জানান, বুধবার গভীর রাতে রেলওয়ে স্টেশনে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র হানা দিয়েছিল। কিন্তু রেলওয়ে পুলিশের সতর্কতায় কোনো ট্রেন যাত্রীর মালামাল চুরি কিংবা ছিনতাই করার সুযোগ পায়নি। আবার থানায় কোনো চুরি বা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কেউ নিয়ে আসেননি।
