×

জাতীয়

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে রিপোর্ট কবে, যা জানা গেল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে রিপোর্ট কবে, যা জানা গেল

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত গতিতে এগোতে চায় সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের আশা প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। এর আগে বেলা আড়াইটায় কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সংগঠনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ধারণ করেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে এগোবে কমিটি।

তিনি জানান, জুলাই সনদের বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব আসলে সেগুলোও পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কাজের গতি বজায় রাখতে সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে কমিটির একটি করে বৈঠক আয়োজন করা হবে।

১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি অংশ নেয়। কয়েকটি দল থেকে একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া একটি দল লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছে এবং অন্য একটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে সব মিলিয়ে ১৭টি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, অনুপস্থিত জাতীয় গণফ্রন্টের সভাপতি স্ত্রীর অসুস্থতা এবং সাধারণ সম্পাদক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর কারণে আসতে পারেননি; তাঁরা কেউ অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যান করেননি।

আরও পড়ুন: ১১ খাতে এনবিআরের আদেশ জারি

ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন

সনদের কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে কাঠামোগত ও আইনি পরিবর্তনের বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে। সংবিধানে সংশোধনের পাশাপাশি অনেক বিষয় আইন, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য, যার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে। এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু প্রস্তাবও এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বর্ষাকালে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ায় অর্থবছর ১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নোট অব ডিসেন্টের সমাধান

উচ্চকক্ষ গঠনসহ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কোনো দল তাদের ভিন্নমত নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। বিএনপি তাদের ৩১ দফায় ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। তাই আমরা সেভাবেই এগোব।"

বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না—এমন রাজনৈতিক প্রচারণাকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সংখ্যাধিক্যের অজুহাতে চুক্তি থেকে পিছিয়ে আসছে না, বরং যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সবার জন্য আলোচনার সুযোগ উন্মুক্ত

বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় প্রক্রিয়াটি একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "যাঁরা সনদে স্বাক্ষর করেননি, তাঁরা আলোচনা করতে চাইলে সেই সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত যেকোনো রাজনৈতিক দল লিখিত প্রস্তাব দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।"

আরও পড়ুন: এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

তিনি জানান, পূর্বে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতেই বর্তমান খসড়া তৈরি হয়েছে। এখন নতুন কোনো ঢালাও প্রস্তাব জটিলতা বাড়াবে, তবে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।

সংবিধানের মৌলিক সংস্কার ও আইনি ভিত্তি

সংবিধান পরিবর্তনের আইনি ও বৈধতার প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "সংবিধান সংশোধন একটি চলমান ও স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। বিশ্বের অনেক দেশেই সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন হয়েছে; যেমন যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২৭ বার হয়েছে। টু-থার্ড মেজরিটি ও জনগণের চাহিদা থাকলে যে কোনো নির্বাচিত সরকার সংবিধানের প্রয়োজনীয় ধারা পরিমার্জন করার অধিকার রাখে।"

নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রতিটি সংশোধনীই মূলত এক একটি সংস্কার। সংবিধানের ভেতরে থেকে যে পরিবর্তনগুলো আসবে, সেগুলো সংসদীয় সংশোধনী হিসেবেই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

অস্কারে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশের যে পাঁচ সিনেমা

অস্কারে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশের যে পাঁচ সিনেমা

দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে খাবার খেয়েছেন এমপি গাজী নজরুল

দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে খাবার খেয়েছেন এমপি গাজী নজরুল

নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের বক্তব্য

নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের বক্তব্য

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে রিপোর্ট কবে, যা জানা গেল

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে রিপোর্ট কবে, যা জানা গেল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App