হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে জুয়েল হোসেন নিরব নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি-লাথি মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা শাহেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে এমন হামলার ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল নেতা শাহেদ ও তাঁর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
অভিযুক্ত শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসা নিতে সদর হাসপাতালে যান জুয়েল। অভিযোগ অনুযায়ী, শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হাসপাতালের সামনেই জুয়েলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে পড়লেও সেখানেও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁকে চেয়ার দিয়ে পেটানোসহ কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান অভি জানান, শাহেদ দালাল বাজার কলেজ ছাত্রদলের ক্লাস কমিটির নেতা ছিলেন। বর্তমানে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই। তবে তিনি পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, হাসপাতালের ভেতরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। হামলার পুরো চিত্র হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
