সরকারী ঘর বিক্রি করে দিলেন প্রধান শিক্ষক
খোরশেদ আলম, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো টিনশেড ঘর গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে সম্পদ বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক শামছুল হক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি আগে বেসরকারি থাকাকালীন জমির দলিল অনুযায়ী মূল সীমানার বাইরের একটি টিনশেড ঘরে পাঠদান চলত। পরবর্তীতে স্কুলটি সরকারিকরণ হওয়ার পর মূল জমিতে সরকারি বরাদ্দে নতুন ভবন নির্মিত হলে পুরনো ঘরটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। সরকারি বিধিমোতাবেক, পুরনো অবকাঠামো অপসারণ বা বিক্রির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমতি এবং যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের টেন্ডার বা ঘোষণা ছাড়াই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক যোগসাজশ করে ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের শেষ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদের আচরণ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই তিনি অশালীন আচরণ করেন, যার কারণে অনেক শিশু স্কুলে যেতে ভয় পায়। এছাড়া অনিয়মের বিষয়ে কোনো অভিভাবক কথা বলতে গেলে সহকারী শিক্ষক শামছুল হক ও প্রধান শিক্ষক মিলে তাদের অপদস্থ করে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই দুই প্রভাবশালী শিক্ষকের অপসারণ ও বদলির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ দাবি করেন,'পুরনো ঘরটি যে জায়গায় ছিল সেটি স্কুলের জায়গা নয়। সরকারি ভবন হওয়ার পর ঘরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানালে তিনি আমাকে ঘরটি ভেঙে মালামাল এক জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখতে বলেছেন। পরবর্তীতে টেন্ডারের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হবে।'
তবে প্রধান শিক্ষকের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফারহানা আক্তার। তিনি জানান,'গোমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ভাঙার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতিও দেওয়া হয়নি। যদি কেউ ঘরটি ভেঙে বা বিক্রি করে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হয়েছে।' বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
