রাঙ্গাবালীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ
কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন একটি সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মান না মানা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পিচ ঢালাইয়ে পুরুত্ব কম দেওয়া এবং যথাযথ তদারকি না থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহেরচর বাজার থেকে নেতা বাজার নাদু প্যাদা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু স্থানে হাত দিয়ে টান দিলেই পিচের স্তর উঠে যাচ্ছে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮২ টাকা। এর মধ্যে ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং ও ১৫ মিলিমিটার সিল কোটসহ নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ করার কথা ছিল। তবে বাস্তবে অনেক জায়গায় নির্ধারিত পুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও পাথরের খোয়ার মানও নিম্নমানের বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় রাস্তার উপরিভাগ ঠিকভাবে বসেনি। পরিমাপে দেখা গেছে, অনেক স্থানে সিল কোটের পুরুত্ব ১০ থেকে ১২ মিলিমিটার, যেখানে ১৫ মিলিমিটার থাকার কথা।
এছাড়া প্রকল্প অনুযায়ী সাইড ড্রেসিং বা এজিং কাজও অনেক জায়গায় অসম্পূর্ণ রয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ ধাপে তদারকি না থাকায় মান নিয়ন্ত্রণ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত পাওয়া যায় বলে জানান অফিস সহায়ক। মোবাইল ফোনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মৃধা বলেন, “হাত দিলেই রাস্তা উঠে যাচ্ছে, ভারী যান চলাচল করলে কয়েকদিনও টিকবে না।” আনছার ডাক্তার বলেন, “ভালো কাজ করতে বললে তারা রাগ দেখায়। রাতের বেলাতেও কাজ করেছে।” আরেক বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তা উঠে যাবে, হাত দিয়ে খোঁচা দিলেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার আইয়ুব গাজী দাবি করেন, তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন। কিছু জায়গায় পুরোনো রাস্তার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে পুরুত্বে সামান্য তারতম্য হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সড়কে অনিয়ম হলে অল্প সময়েই তা নষ্ট হয়ে যাবে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
