নড়াইলে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদার (৩০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলার দত্তপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর নড়াইলজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
পুলিশ ও নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে অভিযুক্ত রবিউল সিকদার কৌশলে শিশুটিকে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর মরদেহ ঘরের ভেতরে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুটি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটির মা অভিযুক্তের ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলে রবিউল সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সন্দেহ হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করে খাটের ওপর শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। পরে তাকে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গুরুতর শারীরিক আঘাতের কারণে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত শিশুর বাবা মফিজুল শেখ বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান শুরু করলে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় জনতা দত্তপাড়া এলাকায় রবিউল সিকদারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে প্রথম দফায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
তবে দুপুরে নড়াইল-যশোর-ঢাকা মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
