হোয়াটসঅ্যাপ বিনিয়োগ ফাঁদে ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ২ জন গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বল্প সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়া কোম্পানির নামে অভিনব কৌশলে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন -মো. মাসুম রানা (৩৮), পিতা-মো. কায়েম উদ্দীন, গ্রাম-নিশিবাপুর, থানা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর এবং মো. শামীম আক্তার (৩৬), পিতা-মো. আলিমুদ্দীন মণ্ডল, গ্রাম-উত্তর কাটলা, থানা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-তে কর্মরত সালেহ আহাম্মদ খান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সাথে পরিচিত হন। প্রতারকরা “ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লি.” নামীয় একটি ভুয়া কোম্পানির পরিচয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে এবং হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র পাঠায়। পরবর্তীতে বাদী সরল বিশ্বাসে নিজের সঞ্চয়, অফিসের অর্থ এবং স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে মোট ৮৫,৮৭,৪০০ টাকা আসামিদের নিকট প্রদান করেন এবং প্রতারকরা মাসিক উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করে।
অর্থ আত্মসাতের পর সালেহ আহমেদ আসামিদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় যেতে বলে বিভ্রান্ত করে। একপর্যায়ে ঢাকার সেগুনবাগিচায় তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা নং- ২০ তারিখ- ২৭(০৭)২৫, ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড রুজু করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি সিআইডিকে অবহিত হওয়ার পর সিআইডি, সিপিসি’র সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযুক্তদের সম্ভাব্য লোকেশন দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে মো. মাসুম রানাকে গত ০৮/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা ০৭:৪০ ঘটিকায় কাটলাহাট, উত্তর কাটলা, বিরামপুর, দিনাজপুরস্থ মেঘলা ফার্মেসি হতে এবং মো. শামীম আক্তারকে গত ০৯/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ রাত ০০:২৫ ঘটিকায় তার নিজ বসতবাড়ী হতে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদ্বয় উক্ত অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
