×

জাতীয়

ইসি মাছউদ

সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন হলে সুবিধা হতো

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন হলে সুবিধা হতো

ছবি : সংগৃহীত

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন চালু হলে অনেক সুবিধা হতো। সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সম্পর্কিত অবস্থান’ শীর্ষক এক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাকশন এইড ও ওয়েব ফাউন্ডেশন।

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের এখানে কেবল এক জায়গায় পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) আছে- তা হলো জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। এটাকে যদি ডাইরেক্ট করা যেত তাহলে অনেক সুবিধা হতো। আশার কথা হলো সংসদে না থাকলেও অন্য সব জায়গায় সরাসরি নির্বাচন রয়েছে।’

তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। উপজেলা পরিষদেও সরাসরি নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন রাখার কথা বলা হয়েছে। কেবল জাতীয় সংসদেই এটি নেই।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে আইনে আনা হয়েছে যে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে হবে। আইনটি ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো দণ্ডবিধি (কনসিকোয়েন্স) না থাকায় এটি বাধ্যতামূলক হচ্ছে না। আমরা পরীক্ষা করে দেখব বলে কথা দিতে পারি।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখাতে হয়। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই সমর্থনপত্র ঠিক নেই। তবুও নারীদের ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দিয়েছি। ‘জনগণ যদি ভোট দেয়, আমাদের আটকানোর কী আছে?’

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল হালিম খান, উপ-সচিব মো. শাহ আলম, জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ও বিভিন্ন সংগঠনের নারী নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসির উপ-সচিব মো. শাহ আলম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা খুবই কম। তিনি ন্যূনতম নারী প্রার্থীসংখ্যার আইনি কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট হলে নারী নেতৃত্ব বাড়বে। কিন্তু এই আইন তৈরি করবে সংসদ, তাই এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী মনিরা শারমিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দলগুলোর পুরুষ মোড়লরাই ঠিক করেন কারা নারী প্রার্থী হয়ে সংসদে আসবেন। দলগুলোকে নারী প্রার্থী বেশি দেওয়ার জন্য বাধ্য করতে হবে এবং ইসিকে আইন বাস্তবায়নে মনিটরিং করতে হবে।

বক্তারা আরও জানান, দলের প্রতিটি পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য পূরণের জন্য আইনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যা যেন ২০৪০ সালে গিয়ে না দাঁড়ায়। সেই সঙ্গে দলগুলোকে বেশি সংখ্যক নারী প্রার্থী দিতে ইসিকে চাপ প্রয়োগের কথাও বলেন তারা।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১২টি ও স্বতন্ত্র জোট একটি আসন পায়। কিন্তু কোনো দল বা জোট একাধিক প্রার্থী না দেওয়ায় সব নারী প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

১২ দিনে পাঁচ মাদরাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ, উদ্বেগ

শেরপুর ১২ দিনে পাঁচ মাদরাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজ, উদ্বেগ

প্লাস্টিক পুড়িয়ে ডিজেল উৎপাদন, ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

প্লাস্টিক পুড়িয়ে ডিজেল উৎপাদন, ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App