ভ্রমণ পিপাসুদের রসনা তৃপ্তিতে কক্সবাজারের ‘পালংকি রেস্তোরাঁ’
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
পালংকি রেস্তোরাঁ।
আপনি যদি কক্সবাজার ভ্রমণে যান, তাহলে কোথায় খাবেন? যেকোনো স্থানে ভ্রমণে গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন, বিষয়গুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোথায় খাবেন এবং কি খাবেন; তাও কিন্তু অনেকের আগ্রহের বিষয়।
কক্সবাজারের আদি নাম পালংকি। স্থানীয় ভাষায় পাল্কিকে বলা হয় পালংকি। জনশ্রুতি আছে; মুঘল সম্রাট শাহ সুজা এক হাজার পাল্কি নিয়ে আরাকান যাওয়ার পথে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এখানে যাত্রা বিরতি করেন। কালের পরিক্রমায় সহস্র পাল্কির সেই বিশ্রাম স্থলই ‘পালংকি’ নামে পরিচিতি পায়। পরর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ শাসক ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স সাহেব তার নিজের নামে এই অঞ্চলে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘পালংকি’ নাম পাল্টে হয়ে যায় ‘কক্সবাজার’।

কিন্তু পালংকি নামটি আবার ফিরে এসেছে, তবে ভিন্নভাবে। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া খাঁটি বাঙালি রন্ধন-প্রণালী ও খাবারের সম্ভার নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে ‘পালংকি’ রেস্তোরাঁ।
পালংকি রেস্তেরাঁর প্রতিটি খাবারে লুকিয়ে আছে বাংলার ঘ্রাণ আর ঐতিহ্য। বাঙালি স্বাদের অতুলনীয় এই আয়োজন যেকোনো ভোজনপ্রিয় বা ভোজন-বিলাসীকে মুগ্ধ করবেই। ইফতার থেকে শুরু করে যেকোনো মৌসুমের রসনাবিলাসি মানুষ এখানে হবে পরিতৃপ্ত। কারণ এসব খাবারের সাথে মিশে রয়েছে দাদী-নানীর রান্নার ছোঁয়া।

কুমড়ো ফুলের ফ্রাই, কলার মোচা দিয়ে তৈরি বিশেষ চপ, লইট্টা মাছের বাহারি সমাহার, ডাব-চিংড়ি, নারিকেলের পুডিং কিংবা পাহাড়ি মোরগের অসাধারণ সব রেসিপি এখানকার নিয়মিত আয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম। সদ্য ধরা টুনা মাছ, লবস্টার, চিংড়ি, পমফ্রেট, অক্টোপি এবং স্কুইডসহ সামুদ্রিক খাবারও বাছাই করা যেতে পারে। চিনিগুঁড়া চালের ভাত ও ঘি মিশিয়ে তৈরি ডাল এখানকার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ।
অষ্টভূজা নাম থেকেই বোঝা যায়, আটটি ভিন্ন ধরনের ভর্তা এবং ভাজির একটি থালা। এই থালাটি সম্ভবত সমগ্র পালংকির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তবে আপনি আটটি ভর্তা এবং ভাজির মধ্যে কোনটি এবং কখন খেতে চান তা আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে।
এখানের খাবারগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রকম পাতুরি এক অনন্য সংযোজন। পাতুরি হল বাঙালিদের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার যা মাছের তৈরি এবং পাতায় মুড়ে অল্প ভাপে রান্না করা হয়। শতবর্ষের প্রাচীন রন্ধন-প্রণালীতে তৈরিকৃত ঐতিহ্যবাহী অথেন্টিক ভেটকি পাতুরি, ইলিশ পাতুরিসহ বিভিন্ন রকমের পাতুরি খেতে হলে এখানেই যেতে হবে।
গ্রাম্য বা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবার, বারবিকিউ এবং গ্রিল পাশ্চাত্যের বিভিন্ন খাবারের প্রতি যাদের দুর্বলতা রয়েছে, তারা এখানে পাবেন মনের মত রকমারি খাবার।
পালংকি নামে কক্সবাজারে দুটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এটার অবস্থান শহরের কেন্দ্রস্থলে। কলাতলির ডলফিন মোড়ে। এক্কেবারেই হাতের নাগালে। মূল সড়কের সাথে লাগোয়া। শহরে অবস্থিত যেকোনো হোটেল থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যাবে এখানে অনায়াসে।
পালংকি’র আরেকটি রেস্তোরাঁর অবস্থান শহর থেকে কিছুটা দূরে। স্থানটির নাম জালিয়া পালং। একান্ত নিরিবিলি পরিবেশে। ইনানী বিচের কাছে এটা অবস্থিত। একারণে এটা পালংকি ইনানী নামে পরিচিত। মেরিন ড্রাইভ ধরে সমুদ্র-তীরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আপনি চলে যাবেন পালংকি ইনানী রেস্তোরাঁয়। সমুদ্র-তীরে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁয় বসে আপনি একইসঙ্গে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন এবং পালংকি রেস্তোরাঁর অসাধারণ খাবারের অপূর্ব স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। এখানকার ভিতর এবং বাইরের পরিবেশ যেকোনো রুচিশীল-প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করবেই।
সমুদ্রের নোনা হাওয়া, পাহাড়ের সবুজ এবং প্লেটে পরিবেশিত ঐতিহ্যের স্বাদ; সব মিলিয়ে আপনার ভ্রমণ হোক ছন্দময় এক আনন্দ অভিজ্ঞতা। তাই কক্সবাজার গেলে শুধু সমুদ্রের সৌন্দর্য নয়, ‘পালংকি’ রেস্তোরাঁর ঐতিহ্যবাহী স্বাদ নিতে ভুলবেন না।
