বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস, ৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ায় ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১২টা ৫৩ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ২০ ডলার বা ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৭৯ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে আসে, যা গত ৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন এবং ওই দিনের পর এই প্রথম এর দাম ৮০ ডলারের নিচে নেমেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৫২ ডলার বা ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন।
তবে বর্তমানে তেলের দাম এখনো বেশি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই উভয় বেঞ্চমার্ক প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬৫-৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
মূলত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি শন্তিচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে, যদিও চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সাময়িক হ্রাস পাওয়ায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে, যার ফলে বাজার নিম্নমুখী হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেছেন, ‘স্বল্পমেয়াদে দরপতনের ঝুঁকি রয়ে গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আটকে থাকা তেলবোঝাই জাহাজগুলো চলাচল শুরু হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনা করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যপক চাহিদা, কৌশলগতভাবে মজুত পুনর্গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ইঙ্গিত দেয়, তেলের দাম যুদ্ধের আগের মূল্যে ফিরে আসার পথটি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।’
