নারায়ণগঞ্জে তিন থানার ওসি প্রত্যাহার
মাহফুজ খান, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে একযোগে তিনটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। রোববার জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল বারিক ও সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল হালিমকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
রোববার রাতে দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জারি করা এক আদেশের মাধ্যমে এই দুই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আদেশে তাদের ক্লোজড করার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, এর আগে গত ২ এপ্রিল রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. সবজেল হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়। তার স্থলে এ এইচ এম সালাউদ্দিন নামে এক পুলিশ পরিদর্শককে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যাহার হওয়া তিন ওসির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।
বিভাগীয় তদন্ত ও নজরদারি: পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া সূত্র অনুযায়ী, অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোতে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ উঠলে এমন 'রুটিন ক্লোজড' বা প্রত্যাহার করা হয়। যদিও জেলা পুলিশ সরাসরি কোনো অভিযোগের কথা স্বীকার করেনি, তবে সূত্র বলছে এটি একটি 'ক্লিন ইমেজ' নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া।
আসন্ন প্রশাসনিক কড়াকড়ি: নারায়ণগঞ্জের বর্তমান অপরাধ পরিস্থিতি এবং কিশোর গ্যাং বা মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ ছিল। মাঠ পর্যায়ের কাজকে আরো গতিশীল করতেই মূলত এই রদবদল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী বা বিশেষ ডিউটি পরবর্তী পদক্ষেপ: গত কয়েক মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বদলি হয়েছে। বিশেষ করে রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে শিল্প-পুলিশ এবং থানা পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য দক্ষ ও নতুন কর্মকর্তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদরের বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে এই দুই থানায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দ্বিতীয় পদমর্যাদার কর্মকর্তারা কাজ চালাচ্ছেন। দ্রুতই সেখানে দক্ষ দুই পরিদর্শককে পদায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।
নেপথ্য কারণ নিয়ে গুঞ্জন:
"যদিও জেলা পুলিশ একে নিয়মিত বদলি হিসেবে দাবি করছে, তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশের শিথিলতার বিষয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জের মতো সংবেদনশীল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার বিশেষ উন্নতির লক্ষ্যেই এই কমান্ড পরিবর্তন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
