সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ, বিচার ও নিরাপত্তা দাবি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
কিশোরগঞ্জ শহরে এক হিন্দু পরিবারের বসতভিটা দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোটের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা। সংগঠনটির দাবি, জমি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে জেলা শহরের কালীবাড়ি এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে হিন্দু যুব মহাজোটের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন চন্দ্র সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার নগুয়া এতিমখানা রোড সংলগ্ন নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ শুরু করেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, জমিটি নামমাত্র মূল্যে বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উচ্ছেদের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, বিতর্কিত সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণে রিপন চন্দ্র সূত্রধরের কাছে জমির দলিল, খারিজ, পৌর হোল্ডিং, বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রয়োজনীয় আইনগত নথিপত্র রয়েছে। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের ওপর এ ধরনের চাপ ও হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনক। একটি নাগরিক পরিবারের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের আড়ালে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
