ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ‘ডিপফেক’ অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা মামলা, সন্ত্রাসী হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এসব অভিযোগ তুলে শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন রাকিবুল ইসলাম মামুন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে মামুন বলেন, যশোদল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন তাঁর চাচাতো মামা। পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও সম্প্রতি বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দীর্ঘ সময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এখনো তাঁর শরীরে সেই হামলার ৩৭টি সেলাইয়ের চিহ্ন বহন করছেন বলে জানান তিনি।
মামুনের দাবি, হামলার ঘটনায় তিনি জালাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তদন্তের একপর্যায়ে অভিযোগপত্র থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাঁকে মাদকসেবী হিসেবে উপস্থাপন করে একটি কৃত্রিম বা ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রাকিবুল ইসলাম মামুন বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ধ্বংসের লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য, ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে জনসম্মুখে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে, যা আমাকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার নতুন কৌশল হিসেবে ভুয়া ভিডিও তৈরির পথ বেছে নিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানিই নয়, বরং সমাজে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরিরও অপচেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যারা অপপ্রচার ও মানহানির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
