আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রিজার্ভ দল নামাতে পারে জর্ডান
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জর্ডানের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুই দলের একাদশে পরিবর্তনের পথে। তবে কারণ এক নয়। গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করায় লিওনেল স্কালোনি বিশ্রাম দিচ্ছেন লিওনেল মেসিসহ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে। অন্যদিকে আগেই বিদায় নেওয়া জর্ডান এই ম্যাচকে দেখছে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে।
গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে বাংলাদেশ সময় রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও জর্ডান। পয়েন্ট টেবিলের হিসাবে ম্যাচটির গুরুত্ব কম। আর্জেন্টিনা দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে গ্রুপসেরা নিশ্চিত করেছে। জর্ডান অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার কাছে হেরে আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে।
এই বাস্তবতায় জর্ডান কোচ জামাল সেল্লামি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কয়েকজন নতুন বা কম খেলা খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারেন। এই ভাবনা শুধু শারীরিক ক্লান্তি বা নিয়মিত একাদশকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য নয়। প্রথম বিশ্বকাপ খেলা একটি দলকে বড় মঞ্চে আরও অভিজ্ঞতা দেওয়াই এর বড় লক্ষ্য।
জর্ডান এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে। ফলের দিক থেকে অভিযান সফল হয়নি, কিন্তু দেশটির ফুটবলের জন্য অভিজ্ঞতাটি ঐতিহাসিক। তাই শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে নতুনদের পরীক্ষা করতে চাইছে কোচিং স্টাফ।
সেল্লামির ভাবনা ভবিষ্যৎ ঘিরে। জর্ডানের সামনে এখন বড় লক্ষ্য এশিয়ার মঞ্চে আরও প্রস্তুত ও গভীর দল নিয়ে নামা। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যারা সুযোগ পাবে, তাদের জন্য এটি হতে পারে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি।
জর্ডান কোচ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বড় সম্মানই দেখিয়েছেন। তার মতে, মেসি খেলুন বা না খেলুন, আর্জেন্টিনা শক্তিশালী দলই থাকবে। তিনি বলেছেন, ‘মেসি খেললে তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। আর না খেললেও আমরা খুব শক্তিশালী ও গুছিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে খেলব।’
আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন হলেও সেল্লামি প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবছেন না। তার ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা কোচ শুরুর একাদশ নিয়ে কী করবেন, আমরা জানি না। কিন্তু যে খেলোয়াড়ই থাকুক, দলটি অসাধারণ। এই দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজের জায়গার যোগ্য।’
এই ম্যাচ তাই জর্ডানের কাছে আত্মসমর্পণের নয়, বরং শেখার সুযোগ। তারা জানে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়া কঠিন। তবে সেই কঠিন ম্যাচেই তারা দেখতে চায়, বিশ্বকাপের চাপের মধ্যে নতুন খেলোয়াড়রা কীভাবে মানিয়ে নেয়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নামতে পারে। স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি বেঞ্চে থাকবেন, পরে মাঠে নামবেন। গ্রুপসেরা হওয়া নিশ্চিত হওয়ায় তিনি দলের অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চান। তার মতে, যারা নিয়মিত খেলেননি, তারাও অনুশীলনে দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
স্কালোনি বলেছেন, ‘যারা কাল খেলবে, তারা খেলার যোগ্য। তারা দলের অংশ। অনুশীলনে আমরা এত পরিশ্রম করেছি তাদের কারণেই।’ আর্জেন্টিনা কোচের আরেকটি লক্ষ্য হলো, খেলোয়াড় বদলালেও দলের খেলার ধরন যেন একই থাকে।
এই ম্যাচে নিকো পাজকে মেসির জায়গায় শুরুতে দেখা যেতে পারে। জুলিয়ান আলভারেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেসদেরও বেশি সময় দেওয়া হতে পারে। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর জায়গায় নিকোলাস ওতামেন্দির ফেরার সম্ভাবনা আছে।
তবে একাদশে পরিবর্তন হলেও ম্যাচটি জর্ডানের জন্য গুরুত্বহীন নয়। রাজধানী আম্মানে ম্যাচটি ঘিরে রয়েছে আলাদা উত্তেজনা। স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৫টায় খেলা শুরু হলেও রোমান থিয়েটার, হাশেমাইট প্লাজা ও ওডিয়ন থিয়েটারে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে। মেসি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জর্ডানের এই ম্যাচকে ঐতিহাসিক উপলক্ষ হিসেবেই দেখছে দেশটি।
জর্ডান অধিনায়ক নূর আল-রাওয়াবদেহও এই ম্যাচকে শুধু ফুটবল হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, বিশ্বকাপে থাকা জর্ডানের মানুষ ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি বার্তা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই, আমরা কারা। জর্ডানের মানুষ স্বপ্ন দেখে, চেষ্টা করে। আমরা খুশি যে এই ছবিটা তুলে ধরতে পেরেছি।’
বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পরও জর্ডানের প্রতি সমর্থন কমেনি। প্রথম বিশ্বকাপে দলের প্রতিটি ম্যাচই দেশটির জন্য আবেগের উপলক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ফল প্রত্যাশামতো না হলেও বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা জর্ডানের ফুটবলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি শেষ ৩২-এর আগে ছন্দ ধরে রাখার সুযোগ। জর্ডানের জন্য এটি শেখার শেষ ক্লাস। ফল যাই হোক, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নতুনদের পরীক্ষা করে ভবিষ্যতের দল গড়ার পথেই হাঁটতে চাইছে তারা।
