×

ঢাকা

বোয়ালমারী মহিলা কলেজ

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, অচলাবস্থার মুখে শিক্ষা কার্যক্রম

Icon

কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, অচলাবস্থার মুখে শিক্ষা কার্যক্রম

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদকে ঘিরে চলমান বিরোধে অচলাবস্থার মুখে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের এক পক্ষের মানববন্ধন এবং অপরদিকে অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।

এতে কলেজে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান প্রয়োজন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করেছেন।

তাঁরা বলেন, তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মানববন্ধন থেকে সাতজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা চুরি ও ডাকাতির মামলা প্রত্যাহার এবং কলেজে সুষ্ঠু ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

অন্যদিকে পরদিন শুক্রবার বোয়ালমারী বাজারের একটি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ।লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাঁকে বিধিবহির্ভূত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর উসকানিতে বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে একই বছরের ২৮ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।

ফরিদ আহমেদ আরও দাবি করেন, উচ্চ আদালতের আদেশে চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পেলেও কলেজে তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁর বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার জন্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা. হোসনেয়ারা বেগম, প্রভাষক দিল আশরাফী ও অফিস সহকারী কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম বলেন, দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, হেনস্তা ও সম্মানহানি করে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করছেন।

স্থানীয়রা জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কলেজে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

স্পিকার ও আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত

স্পিকার ও আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত

দেশজুড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ করবে এনসিপি

দেশজুড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ করবে এনসিপি

ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা বাবা-মায়ের

ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা বাবা-মায়ের

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App