৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ জন অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে সহায়তা সংগ্রহ করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে অভিভাবকহীন ও দরিদ্র মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করছেন তিনি।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা মামুন বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অনন্য এক উদাহরণ তৈরি করেছেন। এ পর্যন্ত ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে তিনি এসব মেয়ের কাছে ‘বাবা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুজন মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। এর মধ্যে ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন মামুন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই অর্থ দিয়েই আতিয়ার বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়।
এর ঠিক ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে সুচিত্রার বিয়ে এর আগে একাধিকবার ভেঙে গিয়েছিল। পরে মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁর বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন: জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যমুনার দুর্গম চর চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় মেয়েদের পাশে দাঁড়ান এই মানবিক যুবক। তাঁর উদ্যোগে বিয়ে হওয়া মেয়েরা আজ নতুন সংসার শুরু করেছেন। মামুনও তাঁদের নিজের মেয়ের মতোই স্নেহের চাদরে আগলে রাখেন।
নিজের এই কাজের বিষয়ে মামুন বিশ্বাস বলেন, “১৫৬টি বিয়েসহ সব মানবিক ও ভালো কাজের মূল কৃতিত্ব আমার ফেসবুক বন্ধুদের। আমি কেবল মানুষের দ্বারে গিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সমাজের বিত্তবান ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই মানবিক কাজে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করতে পারব।”
তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ সম্পর্কে জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, “ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে যে অসহায় ও অভিভাবকহীন সন্তানদেরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে দেওয়া যায়, মামুন বিশ্বাস তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। বিয়ের আয়োজন ছাড়াও তিনি অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, খাদ্য বিতরণ, গবাদিপশু ও দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী করার কাজ করছেন। এমনকি নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন একটি পাখির অভয়াশ্রমও।”
