হামে শিশুমৃত্যু
দায়ীরা কি পার পেয়ে যাবে?
সেবিকা দেবনাথ
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কেউ সেদিকে গুরুত্ব না দেয়ায় মার্চের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এরপর থেকে হাম ও হামের উপসর্গে প্রতিদিনই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সন্তান হারা বাবা-মা আর স্বজনের কান্নায় প্রতিদিনই ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতালের পরিবেশ।
১৫ মে থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এই রোগের উপসর্গে ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত শিশুর মৃত্যু অথচ এর দায় নিতে চাইছে না কেউই। সবাই একে-অন্যের ওপর দায় চাপাতে ব্যস্ত। বর্তমান সরকারসহ সাধারণ মানুষের একটা শ্রেণি শূলে চড়াচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। আবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বর্তমান সরকারে মন্ত্রী পরিষদ ও এনসিপির অনেকেই দায় চাপাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ওপর। কিন্তু দায় আসলে কার?
জনমনে এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কারণ এই রোগ নিয়ন্ত্রণে বহু বছর ধরে কার্যকর টিকা দিয়ে আসছে সরকার। শুধু তাই নয়, এই টিকা কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিতও হয়েছে। তাহলে কোন ব্যক্তি, কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কোন নীতিগত হঠকারিতা কিংবা কার অবহেলায় টিকা সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটল, রোগ নজরদারি ব্যাহত হলো, আর শেষ পর্যন্ত এত শিশুকে প্রাণ হারাতে হলো? তবে প্রশ্ন একাধিক থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট, এত শিশুর মৃত্যু নির্মম রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিচ্ছবি।
বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন। স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দিকেই তীর : ইতোমধ্যে দেশে হামের প্রকোপ এবং এত মৃত্যুর পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি উঠেছে। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও দেশে হামে শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হামে শিশুমৃত্যুতে দায়ীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সিপিবি অবশ্য এই ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারকে দায় দিচ্ছে। এর পেছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও মনে করছেন, টিকার সংকটের কারণে হাম পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য দায়ী মূলত অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁর মতে, প্রয়োজন ছাড়াই উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্তের ফলে হামের বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিজ উদ্যোগেই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত।
সারাদেশে হাম মহামারিতে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ দায়ীদের শাস্তি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সকালে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশ শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপিতে আগামী ১৯ মে’র মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। অন্যথায় অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা। এ সময় বক্তারা হামে চার শতাধিক শিশু হত্যার দায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যদের বিচার দাবি করেন।
সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, তথ্য বের হচ্ছে, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিলেও তারা নাকি ৪১ হাজার চারশ ৭ কোটি টাকা রেখে গিয়েছিল স্বাস্থ্য খাতে। তাহলে টিকা কিনতে তো অসুবিধার কথা না। কিন্তু তা হলো না কেন? কারণ উনি (ড. ইউনূস) ব্যস্ত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ ফোন দিয়ে কীভাবে সরকারের থেকে আরো সুবিধা নেয়া যায়। তিনি বেশি ব্যস্ত ছিলেন নিজের ট্যাক্স ফাঁকি-মওকুফ, নিজের নামে অনিয়ম ও মামলা কীভাবে প্রত্যাহার করা যায় এবং কীভাবে ইউনিভার্সিটি নেয়া যায় তা নিয়ে।
তিনি আরো বলেন, নূরজাহান নামে একজনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পত্রপত্রিকায় দেখলাম, তিনি নাকি ৩ জনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ইউনিসেফের টিকা কেনেননি। সাংবাদিকরা এর কারণ খুঁজে বের করেছে। এখন শোনা যাচ্ছে, ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কিনলে নাকি কমিশন পাওয়া যেত না, তাই কেনেনি। আমি ধিক্কার জানাই এবং এই সরকারের কাছে দাবি করি, এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
এর আগে ১০ মে সন্ধ্যায় সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনার দোষীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। ঢাবির রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে এ সময় শিক্ষার্থীরা মুখে এবং চোখে কালো কাপড় বেঁধে নানা ধরনের স্লোগান-সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়ান।
মানববন্ধনে বক্তারা হামে ৪ শতাধিক মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বলেন, আমরা দেখেছি বিগত সময় যে সরকার ছিল, সে সরকার সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কিন্তু তারা হামের টিকা কেনেনি। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়া একই দিনে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের আয়োজিত মানববন্ধনেও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বর্তমান সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে অদ্ভুত মিল দেখা যাচ্ছে। এমনকি সংসদ অধিবেশনেও শিশুমৃত্যু নিয়ে কোনো যথাযথ উদ্যোগ বা আলোচনা দেখা যায় না।
ইউনিসেফ হামের সংকট ও শিশুমৃত্যুর বিষয়ে ইউনূস সরকারকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এত শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের মূল কান্ডারি ইউনূস সরকার এবং বর্তমান সরকারকেও এর দায় নিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ
হাম নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল বিশ্বব্যাপী শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, সুরক্ষা এবং অধিকার রক্ষায় কাজ করা ইউনিসেফ। সম্প্রতি এ নিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া। সেখানে তিনি জানান, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার হামের ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে, এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ইউনুস সরকার। দুঃখজনকভাবে এ সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে। ২০২৫ সালে ইউনিসেফ আগাম অর্থায়নের ব্যবস্থা করে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে, যাতে তীব্র সংকট মোকাবিলা করা যায়। এর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুত বজায় রাখা সম্ভব হয়।
তবে কিছু টিকার ক্ষেত্রে এর আগেই মজুত শেষ হয়ে যায় এবং কিছু টিকার ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে টিকা সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি। ফলে শিশুদের সময়মতো হামের টিকাও দেয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
টিকা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক গবেষক (আইসিডিডিআর, বি) ডা. তাজুল ইসলাম এ বারি বলেন, টিকার ঘাটতির কথা জানানোর পর টিকা ক্রয় করা হয়। আর সেই টিকার প্রথম চালান আসে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। ওই সময় ২২ লাখ টিকা আসে। আর ওই টিকার দ্বিতীয় চালান আসে গত ৫ মে। আর ওই টিকা ঢাকার বাইরে না পাঠিয়ে ইপিআর এ মজুত করে রাখা হয়।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর বলেন, মাঠে টিকা নাই সেটা সত্যি। কিন্তু ইপিআর-এ টিকা মজুত ছিল। মহাখালী থেকে টিকা নিয়ে গাড়ি নড়ে না, কারণ তেল নাই। তেলের পয়সা নাই দেখে টিকা জেলাগুলোতে গেল না। কথা হচ্ছে টিকা ছিল নাকি ছিল না, টিকা অবশ্যই ছিল কিন্তু গাড়ির তেলের পয়সা নাই সেই কারণে এই টিকা পৌঁছানো হয়নি। আবার জেলাগুলো ও উপজেলা থেকে যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা নিয়ে যায় তাদের টাকা দেয়া হচ্ছে না, না খেয়ে তারা কয়দিন কাজ করবে। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে টিকা না পৌঁছানোয় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে কিছু অবহেলা আছে এবং কিছু অপরিকল্পিত উদ্যোগ আছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এর পেছনে দুইটা কারণ তো চিহ্নিত হচ্ছে বারবার, এক হচ্ছে টিকা দেয়া হয়নি। সেটা টিকা আনা হয়নি ঠিকমতো অথবা এসে বসে ছিল, যে কারণেই হোক দুটোই সত্য। ঠিক সময় আনাও হয়নি আবার যেটুকু এসেছে সেটা দেয়া হয়নি।
ইউনিসেফ প্রধান ‘ডোন্ট ডু দিস ফর গড সেক’ বলার পরেও কারা এমন করল, কেন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ থাকল, কেন এই টিকা দেয়া বন্ধ থাকল, ওই সময় দায়িত্বে কারা ছিলেন, কাদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এটা হলো, যদি তাদের ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেয়া না হয় এবং তারা যদি দায় না নেন, তাহলে ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। যারা দায়ী তাদেরকে প্রয়োজন মতো যার যতটুকু ভূমিকা সেটুকুর জন্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শাস্তির আগে অন্তত তাদের তরফ থেকে আমরা ভুল স্বীকার করে অ্যাপোলজিটা প্রত্যাশা করি।
হামের বিষয় তদন্তে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ কমিটি হবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, হামের প্রাদুর্ভাব ও বর্তমান সংকটের কারণ অনুসন্ধানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, হামে এরইমধ্যে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন হামের টিকার সংকট তৈরি হলো, টিকা কার্যক্রমে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কিনা, এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে গত ৯ মে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, এ ক্ষেত্রে কারোর কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ফলাফল সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে জানানো হবে। তবে কয় সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কবে নাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে স্বাস্থ্য সচিব বলেছিলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার। জনগণের জানা দরকার। আমাদের সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জবাবদিহিমূলক সরকার। সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত।
আরো ৯ শিশুর মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিত হামে ও ৬ জনের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ শিশু। গতকাল মঙ্গলবার হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ৪২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৫৬ শিশু। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৭ হাজার ২৪ শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫১ হাজার ৫৬৭ শিশু। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ১৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৯৩২ শিশু।
