সবজিতে স্বস্তি ফিরলেও চড়া ডিম-মুরগি-মাছ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম এখনো বাড়তি। এর সঙ্গে ভোজ্যতেল, চিনি, আটা ও ময়দার দামও বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ কম থাকায় অনেক সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।
কাঁচা মরিচের দামও আগের তুলনায় কমেছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দামও কমেছে।
পেঁয়াজ ও আলুর বাজারে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা গেছে।
সবজির দাম কমলেও বাড়ছে কিছু নিত্যপণ্যের দাম। বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে যা ছিল ৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেটের দামও ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।
চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যও ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।
মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ডিলাররা ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে চিনির সরবরাহও কমেছে। অনেক দোকানে চিনি না থাকায় ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে আগের তুলনায় সরবরাহ কমেছে।
ভোজ্যতেলের বাজারেও সরবরাহ কমেছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো সরকার নির্ধারিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।
ডিমের দামও এখনো আগের উচ্চমূল্যে রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুরগির বাজারও চড়া। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি, কাঁচা মরিচ, আলু ও পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাড়তি দাম এবং সরবরাহ সংকটের কারণে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
