৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। সবজির বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার আশপাশে বা তার বেশি। একই সঙ্গে দেশি মাছের দামও অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, সবজি ও মাছসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই বাড়তি। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া পটল, বেগুন, উচ্ছে, বরবটি, করলা ও কচুর লতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং চালকুমড়া ও শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী ও টাউনহল বাজারের ক্রেতারা জানান, কয়েক ধরনের সবজি একসঙ্গে কিনলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির বাজার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক ক্রেতা বলেন, “এক কেজি করে কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংসের সঙ্গে সবজির বাজার সামলানো এখন কঠিন।”
বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং পণ্য নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যুক্ত হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বিশেষ করে দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল, চিতল ও বোয়াল মাছ ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি তুলনামূলক ছোট কাচকি মাছের দামও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি।
বেশি দামের কারণে অনেক ক্রেতা দেশি মাছের পরিবর্তে চাষের মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে সেখানেও দাম খুব একটা কম নয়। বাজারে পাঙাশ ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “পাবদা বা শিং মাছের দাম শুনলে কিনতে ইচ্ছা করলেও অনেক সময় সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে পাঙাশ বা তেলাপিয়া কিনছি। কিন্তু সেগুলোর দামও এখন বেশ বেশি।”
শ্যামবাজারের মাছ বিক্রেতারা জানান, জলাশয়ে আগের তুলনায় দেশি মাছের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে চাষের মাছ উৎপাদনে খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। ক্রেতাদের অভিযোগ, তাদের আয় যে হারে বাড়ছে, বাজার খরচ তার তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে।
টাউনহল বাজারের এক ক্রেতা বলেন, “বেতন যে হারে বাড়ে, বাজারের খরচ তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ে। মাসের শুরুতেই বাজার করলে মনে হয় টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাসের শেষদিকে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিতে হয়।”
ভোক্তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তন বা নির্বাচনের আগে বাজার নিয়ন্ত্রণের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে নিত্যপণ্যের দামে স্থায়ী স্বস্তি ফিরছে না।
খুচরা ব্যবসায়ীরা মনে করেন, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়াতে হবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিপণনের প্রতিটি ধাপে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত মুনাফা এবং বাজার কারসাজির অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।
ভোক্তাদের দাবি, বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফেরাতে সরকারকে সমন্বিতভাবে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা না করে উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়েও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাদের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং অস্বাভাবিক মুনাফা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।
