দিল্লি বিক্ষোভে নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ
পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
জন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে শনিবার বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন তিন নারী সাংবাদিক। তাদের অভিযোগের বিষয়ে ‘নিরপেক্ষ’ তদন্তের জন্য সেগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
অভিযোগকারী এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ চলাকালে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) তাকে যৌন হয়রানি করেন। পুলিশি তৎপরতার ভিডিও ধারণের সময় ওই কর্মকর্তা তাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই সাংবাদিক আরও জানান, পরে তিনি ও অন্যরা মামলা করতে একটি থানায় যান। তবে অভিযোগটি তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিকদের অভিযোগ তারা পেয়েছে এবং ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ জন্য সেগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে ‘স্তম্ভিত ও হতাশ’ হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। বিভিন্ন দাবি ও ইস্যু নিয়ে যারা সমবেত হন, তাদের কর্মসূচি স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে সাংবাদিকদের কাভার করার সুযোগ দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও যদি সাংবাদিকদের কাজ করতে দেওয়া না হয়, তাহলে ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে তা উদ্বেগের বিষয়। নারী সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকরা যেন কোনো ধরনের আগ্রাসী আচরণ বা হুমকির মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শনিবার কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব দাবি করেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, দিল্লি পুলিশ যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই এ বিষয়ে অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জন্তর মন্তরে এক নারী সাংবাদিক একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে শত শত সাংবাদিক সেখানে বসে আছেন, তাদের একটাই দাবি—এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে। এফআইআর করা কি পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব নয়? অথচ সেটিও করা হয়নি।’
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, শনিবারই জন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সাংবাদিকদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের অসদাচরণের ভিডিও প্রমাণ আমরা দেখেছি।’
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে দিল্লির বিভিন্ন এলাকার নারী ও শিক্ষার্থীরা সত্যাগ্রহ করছেন। অথচ তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশই তাদের ওপর হাত তুলছে বলে অভিযোগ উঠছে।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও যে সরকার ভয় পাচ্ছে, তারা আসলে কী রক্ষা করছে? দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অমিত শাহজি, আপনি কোথায়? এ বিষয়ে আপনাকেই জবাব দিতে হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি।
