ব্যাংকের বাইরে টাকা জমাবেন যেভাবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক বন্ড সুকুকে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে নতুন করে বরাদ্দ কাঠামো নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সুকুকের ১০ শতাংশ শুধু ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ব্যাংক ও বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও সুকুকে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে মাউশির কমিটি
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সুকুকের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির জন্য। প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও ইসলামি উইন্ডোর জন্য থাকবে ৩০ শতাংশ। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয়েছে ১০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে প্রচলিত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড, আমানত বিমা, বিনিয়োগ কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য।
আগের বরাদ্দে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের আলাদা অংশ ছিল না
আগের ব্যবস্থায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক কোনো কোটা ছিল না। মোট ১৫ শতাংশ সুকুক ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড, আমানত বিমা, বিনিয়োগ কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য বরাদ্দ থাকত।
এ ছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও উইন্ডোর জন্য ৮০ শতাংশ এবং প্রচলিত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল।
আরও পড়ুন: চালুর প্রথম দিনেই পিংক বাসে বলাকার ধাক্কা
নতুন কাঠামোয় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা করে ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ায় সুকুকে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সুস্পষ্ট হলো।
সুকুক কী
সুকুক ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক একটি বিনিয়োগপণ্য। প্রচলিত বন্ডে সুদের ভিত্তিতে আয় নির্ধারিত হলেও সুকুকের কাঠামো শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ করে। সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সংগ্রহের জন্য সুকুক ইস্যু করে থাকে।
নির্দিষ্ট মেয়াদে বিনিয়োগ করে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় সুকুক ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি বিকল্প মাধ্যম।
সাধারণ বিনিয়োগকারীর কী সুবিধা
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সুকুকের একটি নির্দিষ্ট অংশ এখন শুধু ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কোনো সুকুক ইস্যুর সময় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের আবেদন করার সুযোগ থাকলে বরাদ্দের ১০ শতাংশ তাদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।
তবে ১০ শতাংশ বরাদ্দের অর্থ এই নয় যে আবেদন করলেই প্রত্যেক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী সুকুক পাবেন। বরাদ্দ নির্ভর করবে মোট আবেদন, ইস্যুর আকার এবং সংশ্লিষ্ট সুকুকের শর্তের ওপর।
আরও পড়ুন: মহাসড়কে এআই ক্যামেরা চালু হলে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সুকুকের ব্যবহার বাড়ছে। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিনিয়োগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে।
অর্থাৎ ব্যাংকের প্রচলিত আমানতের বাইরে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের একটি বিকল্প পথ হিসেবে সুকুকে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সুসংগঠিত হলো।
