ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় ব্যাংকগুলোকে নতুন করে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কার্ডের পণ্য ও চুক্তি থেকে শুরু করে লেনদেন, ফি-চার্জ এবং পরিচালন পদ্ধতিতে ইসলামী শরিয়াহর নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো সুদভিত্তিক ব্যবস্থা ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে অনুসরণ করা যাবে না। এর পরিবর্তে কার্ড পরিচালনায় কর্জ (সুদমুক্ত ঋণ) এবং উজরাহ (সেবা মূল্য) নীতি অনুসরণ করতে হবে।
শরিয়াহসম্মত নয়—এমন কোনো পণ্য বা সেবার লেনদেনেও ইসলামী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে মদ, জুয়া, তামাকসহ শরিয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবা কেনাবেচায় এ কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো গ্রাহকের মুদারাবা বা বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের সঞ্চিত আমানতের অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না।
নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ টাকা উত্তোলনের সময় নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নেওয়া যাবে। তবে উত্তোলিত অর্থের পরিমাণের ওপর শতাংশের ভিত্তিতে কোনো ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।
কার্ড-সংশ্লিষ্ট কোনো ফি বা চার্জ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে গ্রাহককে অন্তত ৩০ দিন আগে জানাতে হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের আগাম তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি চার্জ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটা, নগদ অর্থ উত্তোলন কিংবা ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য দেওয়া অর্থ হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফলে এ ধরনের ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের অতিরিক্ত কোনো অর্থ বা সুবিধা নেওয়া যাবে না। ইসলামী ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় শরিয়াহর নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
