×

শিক্ষা

ক্যান্টিনের খাবারে নেই উন্নতি, ভোগান্তিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

Icon

রাফিউজ্জামান লাবীব, ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ক্যান্টিনের খাবারে নেই উন্নতি, ভোগান্তিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৌলিক সমস্যাগুলোর অন্যতম স্বাদ ও মানহী খাবার পরিবেশনা। বিগত সময়গুলোতেই এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছিল। শিক্ষার্থীদের এটি ছিল নিত্যদিনকার অভিযোগ। এ অবস্থার জন্য তৎকালীন ক্যান্টিন মালিকরা ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতাদের বাকি খাওয়াকে দায়ী করতো। সরকার পরিবর্তনের পর প্রেক্ষাপট পালটেছে। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হয়েছে। পরিবর্তিত এ প্রেক্ষাপটে খাবারের মান উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। কিন্তু সে প্রত্যাশা অজানা কারণে বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিছু কিছু জায়গায় কিঞ্চিত পরিবর্তন এলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধানের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়, হল কর্তৃপক্ষ ও হল সংসদের কাছ থেকে দেখা যায়নি।

পঁচা ও বাসি খাবার পরিবেশন, নিম্নমানের সবজি ও চাল রান্না, পরিমাণ মতো মসলা না দিয়ে ক্ষতিকর 'টেস্টিং সল্ট' ব্যবহার করে কৃত্রিম স্বাদ বাড়ানোর চেষ্টা করা, হল সংসদগুলোর নিয়মিত তদারকি না থাকা, ভর্তুকি থাকার পরেও বেশি দামে বিক্রি করাসহ সর্বোপরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকা খাবারের মান খাবার হওয়ার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে। পাশাপাশি এ ইস্যুতে ডাকসুর ব্যর্থতার বিষয়টিও অনেকে তুলে এনেছেন। 

ক্যান্টিনের খাবার খেতে না পেয়ে অনেকে হলের খাবারের দোকানগুলো থেকে ভাত কিনে খান। তবে সেখানে ক্যান্টিনের তুলনায় দাম বেশি থাকে এবং স্বাদেও খুব বেশি তারতম্য থাকেনা। ফলে অনেক শিক্ষার্থীই রুমে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে নষ্ট হচ্ছে রুমের পড়াশোনার পরিবেশ। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের দ্বিতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী প্রীতি আক্তার ভোরের কাগজকে বলেন, ক্যান্টিনের খাবার অস্বাস্থ্যকর হওয়াই এখন আর খাই না। কষ্ট হয়, তবুও নিজে রান্না করে খাই। হলের ক্যান্টিনে খাবারের যেই অবস্থা, বাসায় খাবার খেয়ে অভ্যস্ত কেউ এই খাবার খেয়ে টিকতে পারবে না। এই খাবার শিক্ষার্থীরা নিতান্ত নিরূপায় হয়েই খায়। 

তিনি আরো বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা নিয়েও ব্যাপক অভিযোগ আছে। রান্নার মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ দূর হয়নি। কোনো দিক থেকে এমন খাবার শিক্ষার্থীদের তৃপ্ত করতে পারে না। ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর, স্বাদহীন খাবার নিয়ে নিয়মিতই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ডাকসু এ জায়গায় কাজ করতে পারতো। কিন্তু, মনে হচ্ছে তারাও খুব বেশি কাজ করছে না। 

এদিকে ছেলেদের হলগুলোতে খাবারের মানে খুব বোশি পরিবর্তন না আসায় স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক বলেন, অন্তত নিরূপায় হয়েই ক্যান্টিনে মাঝেমধ্যে যাই। খাবারের চেহারা দেখে না খেয়ে রুমে চলে এসেছি এমন অসংখ্যবার হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে রুমে রান্না করি। এতে সময় অনেক নষ্ট হয়। 

খোদ রমজানেও খাবারের পরিমাণ এত কম রাখা হয় যে অধিকাংশ সময় প্রয়োজনীয় আইটেম শেষ হয়ে যায়, ফলে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের তৃতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সেবী সাইদ। তিনি বলেন, যে এক-দুইটি আইটেম পাওয়া যায়, সেগুলোর মান ও স্বাদও অনেক সময় খাওয়ার উপযোগী থাকে না। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সেহেরির সময় বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, ফলে ক্যান্টিনের উপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত ও মানসম্মত সেহেরির ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ে।

শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী মো ইমরান বলেন,  ক্যান্টিনের খাবারে স্বাদে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয়। কিন্তু খাবারের গুনগত মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দূর হয়নি। খাবার দাম-মান-পরিমাণ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট না। ক্যান্টিনের পরিচালকরা বলে সবকিছুর দাম নাকি বেশি সেজন্য ভালো করা সম্ভব হয়না।

খাবারের মানে উন্নতি করতে হল প্রশাসন কাজ করছে দাবি করলেও বাহ্যিক কোনো উন্নতি নাই বলে অভিযোগ শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের। এবিষয়ে হল সংসদের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ বলেন, আমরা খাবারের মান বজায় রাখার জন্য ক্যান্টিনে চাপ প্রয়োগ করছি। ক্যান্টিন ম্যানেজার পরিবর্তনের জন্য খুঁজছি। তবে ভালো পাচ্ছি না দেখে এভাবে চালাতে হচ্ছে। 

বর্তমানে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এখন আর কেউ বাকি খায় না। ক্যান্টিন পরিচালকরাও জানান, এখন টাকা ছাড়া খাবার খাওয়ার কোনো অভিযোগ নেই। তবুও ভালো মান নিশ্চিত হচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ক্যান্টিন পরিচালক মইনউদ্দিন মঈন বলেন, অল্প শিক্ষার্থী খেতে আসলে রান্না কম হয়, এতে আমাদের তুলনামূলক লাভ কমে যায়। আমার তো স্টাফদের বেতন ভাতা দিতে হয়! আর বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে অল্প টাকায় আর খাওয়ানো যাচ্ছে না।

খাবার সমস্যার সমাধান নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের উদ্যোগ নিয়ে ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মহিউদ্দীন খান বলেন, আমরা হল সংসদগুলোর সাথে প্রায় প্রতিটা হলের খাবারের মান নিয়ে আলাপ করেছি। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো খাবার পায় সেদিকে লক্ষ রেখে ডাকসু কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অসঙ্গতি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।  

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি আহ্বায়ক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা বর্তমানে ক্যান্টিন বা ডাইনিংগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রান্না ও পরিবেশনার উপর নজর রাখছি। খাবারের মান উন্নতে করতে হল কর্তৃপক্ষ ও হল সংসদ মিলে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখবো। 

এবিষয়ে ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা বলেন, হল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদেরকে হলের ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানগুলোতে খাবারের গুণগতমান ও স্বাস্থ্যগত বিধান দেখভালের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। খাবার তদারকির ক্ষেত্রে হল প্রশাসন ও হল সংসদের মাধ্যমে ক্যান্টিন মালিকদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দেশ মাদকমুক্ত না হলে বাজেট উপকারে আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশ মাদকমুক্ত না হলে বাজেট উপকারে আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের তালিকা চান হাইকোর্ট

কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের তালিকা চান হাইকোর্ট

১৮ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বরেকর্ড

১৮ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বরেকর্ড

জাহেদের সঙ্গে হওয়া ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাহেদের সঙ্গে হওয়া ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App