কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে ফিরলেন শিক্ষকরা
হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ছবি: অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া, উপাচার্য, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত জটিলতা অবশেষে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পূর্বে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া শিক্ষকরা পুনরায় নিজ নিজ অতিরিক্ত দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সম্মানী সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতির কারণে গত ২৬ এপ্রিল তারা একযোগে রেজিস্ট্রার দপ্তরে অব্যাহতির আবেদন জানান।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরদিন ২৭ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. ইমান আলী এবং রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিনের উপস্থিতিতে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ছয় ঘন্টার সভায় উভয় পক্ষ খোলামেলা আলোচনা করেন এবং শিক্ষকদের উত্থাপিত প্রায় ২০টি দাবির বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। এসব দাবির মধ্যে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে শিক্ষকরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পুনরায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে সম্মত হন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবুও এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রশাসন ও শিক্ষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
এ বিষয়ে ভোরের কাগজকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে উঠবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবিলা করছে এবং যাচাই-বাছাই করা সঠিক তথ্য উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
