×

ফুটবল

বিশ্বকাপে নামার আগেই ‘অভিশাপের’ মুখে আর্জেন্টিনা

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

বিশ্বকাপে নামার আগেই ‘অভিশাপের’ মুখে আর্জেন্টিনা

ফাইল ছবি

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে যাওয়া এমনিতেই সহজ নয়। চার বছর ধরে সবাই যে দলকে মাপতে থাকে, সে দলকেই আবার নতুন করে প্রমাণ করতে হয় কেন তারা সেরা। আর্জেন্টিনার সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই চ্যালেঞ্জ তো আছেই; তার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আরেকটি অদ্ভুত চাপ—ফিফা র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপে নামার মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

ফুটবলে আর্জেন্টিনা মানেই আবেগ, ইতিহাস, বিশ্বাস আর কুসংস্কারের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তাই পরিসংখ্যানের ছোট কোনো ইঙ্গিতও সেখানে বড় আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তেমনই এক আলোচনার কেন্দ্রে লিওনেল মেসিদের দল। স্পেনের সঙ্গে ইরাকের ১-১ ড্র এবং আইভরি কোস্টের কাছে ফ্রান্সের ২-১ গোলে হারের সুবাদে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান নিজেদের করে নেয় আর্জেন্টিনা।

শুনতে এটি বড় অর্জন। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল—এর চেয়ে আত্মবিশ্বাসী পরিচয় আর কী হতে পারে! কিন্তু বিশ্বকাপ ইতিহাসের একটি অস্বস্তিকর তথ্য আর্জেন্টিনার আনন্দে সতর্কতার রেখা টেনে দিচ্ছে। ফিফা র‍্যাংকিং চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো দলই র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বরে থেকে বিশ্বকাপে গিয়ে শিরোপা জিততে পারেনি।

ফিফা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং চালু হয় ১৯৯২ সালে। এরপর ১৯৯৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আটটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবারই র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল বিশ্বকাপে গেছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে, কিন্তু কেউই শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে র‍্যাংকিং যুগের নবম আসর। এবার সেই অদ্ভুত ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা।

মেসিদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল। কারণ, তাদের সামনে শুধু র‍্যাংকিংয়ের এই ইতিহাসই নয়, আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘদিনের আরেকটি চিরাচরিত চাপও। বিশ্বকাপ ধরে রাখা আধুনিক ফুটবলে প্রায় অসম্ভব এক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল—১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে। পেলের সেই সোনালি যুগের পর আর কোনো দেশ পরপর দুই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

তার আগে ইতালি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও টুর্নামেন্টের কাঠামো নিয়ে ইতিহাসে নানা বিতর্ক আছে। আধুনিক ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যে ব্রাজিলের ১৯৫৮-৬২ সালের কীর্তিই এখনও শেষ বড় উদাহরণ।

১৯৭০ সালের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে মাত্র তিনটি দল—১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স। তিন দলই শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছেড়েছে। অর্থাৎ শিরোপা জেতার পর পরের আসরে আবার ফাইনালে ওঠাই যেখানে বিরল, সেখানে ট্রফি ধরে রাখা আরও কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।

আর্জেন্টিনা এবার সেই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে। ২০২২ সালে কাতারে মেসির হাতে বিশ্বকাপ উঠেছিল এক আবেগঘন পরিসমাপ্তির মতো। আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষ হয়েছিল, মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচেছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই গল্পের শেষ পাতা নয়; বরং নতুন প্রশ্নের শুরু—আর্জেন্টিনা কি শুধু জিতেছিল, নাকি তারা একটি নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ, ২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যে কোনো আসরের চেয়ে বড়। প্রথমবারের মতো এবার ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, পথ দীর্ঘ হয়েছে, সেইসঙ্গে চাপও। নতুন ফরম্যাটে শিরোপা জিততে হলে শুধু শক্তিশালী দল হলেই হবে না, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে শারীরিক ও মানসিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

মেসির বয়সও এখন আর্জেন্টিনার গল্পের বড় অংশ। তিনি এখনো দলের সবচেয়ে বড় প্রতীক, কিন্তু এই দলকে শুধু মেসির ওপর দাঁড় করিয়ে বিশ্বকাপ জেতানো সম্ভব নয়। লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার এবার আরও বেশি দরকার হবে ‘যৌথ শক্তি’—দলের ভারসাম্য, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণে স্থিরতা এবং আক্রমণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠান্ডা মাথা।

আর্জেন্টিনার শক্তি এখানেই যে, তারা ২০২২ সালের মতো শুধু প্রতিভার দল নয়, বরং একটা আত্মবিশ্বাসী দল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, এনজো ফের্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দে পল, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ—এই দলটিতে বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা আছে। আছে কঠিন ম্যাচ বের করে নেওয়ার মানসিকতা।

তবে ইতিহাসের ওজন কখনো কখনো প্রতিপক্ষের চেয়েও ভারী হয়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামা মানে প্রতিটি প্রতিপক্ষ বাড়তি প্রেরণা নিয়ে খেলবে। তার ওপর র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল হওয়া মানে প্রত্যাশার মাত্রা আকাশচুম্বী হওয়া। আর্জেন্টিনা জিতলে সেটি স্বাভাবিক মনে হবে, আর না জিতলে উঠবে হাজারো প্রশ্ন।

এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার সামনে দুটি পথ। একদিকে আছে কুসংস্কার ও পরিসংখ্যানের ভয়—র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল বিশ্বকাপ জেতে না, বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শিরোপা ধরে রাখতে পারে না। অন্যদিকে আছে ফুটবলের চিরন্তন সত্য—সব রেকর্ডই একদিন না একদিন ভাঙে। আর ইতিহাস বদলানোর জন্যই তো বড় দলগুলো বিশ্বকাপে নামে।


টাইমলাইন: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘অলৌকিক’ সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

‘অলৌকিক’ সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

কুয়াকাটা সৈকতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বিশ্ব পরিবেশ দিবস কুয়াকাটা সৈকতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পুনরায় সচল হতে পারে মোগলহাট স্থলবন্দর

উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন পুনরায় সচল হতে পারে মোগলহাট স্থলবন্দর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App