আর্জেন্টাইন সেই শিশুর বক্তব্য ভাইরাল, গভীরভাবে নাড়া দিলো স্কালোনিকে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
ফাইল ছবি
আর্জেন্টিনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে এক শিশুর দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে দেওয়া সেই খুদে ভক্তের বক্তব্য ছুঁয়ে গেছে খোদ আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। সংবাদ সম্মেলনে সেই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বজয়ী এই মাস্টারমাইন্ড। যেখানে শিশুটি তার বক্তব্যে পুরো দেশ, লিওনেল মেসি এবং জাতীয় দলকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের সময়সূচি আর্জেন্টিনার জাতীয় উৎসবের দিনগুলোর সাথে মিলে গেছে। গত ৯ জুলাই আর্জেন্টিনার প্রতিটি স্কুলে উদযাপিত হয়েছে দেশটির স্বাধীনতা দিবস। আর স্কুলের এমনই এক অনুষ্ঠানের ভিডিও এখন নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক ছোট শিশু তার ফুটবলীয় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চিৎকার করে বলে ওঠে— ‘এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা, এগিয়ে যাও জাতীয় দল, এগিয়ে যাও মেসি, এবার আমাদের চতুর্থ শিরোপার পালা!’
শনিবার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কোচ স্কালোনি স্বীকার করেছেন, শিশুটির এই বক্তব্য তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
ফ্লোরেস এলাকার ‘লিবের্তাদোর স্কুল’-এর শিক্ষার্থী ওই শিশুটি মূলত তার মুখস্থ করা বক্তব্য মঞ্চে উপস্থাপন করছিল। তবে ঠিক তখনই নিজের অন্তরের গভীর থেকে আলবিসেলেস্তেদের প্রতি তীব্র আবেগ প্রকাশ করে সে বলে ওঠে, ‘হ্যাঁ, আমরা স্বাধীন! আমরা স্পেনের শাসন থেকে মুক্ত। নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করার জন্য আমরা স্বাধীন। আমরা আমাদের জন্মভূমিকে গড়ে তুলব এবং গর্বের সাথে আমাদের পতাকাকে রক্ষা করব। এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা! এগিয়ে যাও দল! এগিয়ে যাও মেসি! চলো এবার চতুর্থ শিরোপাটা ছিনিয়ে আনি!’
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচের নজর কাড়তে সময় নেয়নি। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্কালোনি আর্জেন্টাইন স্পোর্টস দৈনিক ওলে-কে বলেন, ‘আমি জানি না আপনারা এটি দেখেছেন কি না, আমার কাছে একটি ভিডিও এসেছে যেখানে এক শিশু বলছে মাতৃভূমি দীর্ঘজীবী হোক, আর্জেন্টিনা দীর্ঘজীবী হোক। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। আমি জানি না ছেলেটির বয়স কত— ৮, ৯ নাকি ১০ বছর হবে। কথাগুলো যদি সত্যিই তার ভেতর থেকে এসে থাকে, তবে তা অবিশ্বাস্য।’
জাতীয় দল দেশের মানুষের কাছে কী অর্থ বহন করে, তা নিয়ে স্কালোনি আরো বলেন, ‘দিনশেষে আমরা—জাতীয় দল, কোচ কিংবা খেলোয়াড়রা—ফুটবল খেলি ঠিক এই দৃশ্যগুলো দেখার জন্যই। এটি কেবল ম্যাচ জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর এই বিষয়গুলো যদি মন থেকে আসে... তবে ওই বয়সী একটি বাচ্চার মুখে এমন কথা শোনা, প্রোটোকল ভেঙে মঞ্চে দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং উপস্থিত সবাইকে আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা স্লোগানে মুখরিত করে তোলা আসলেই অবিশ্বাস্য।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে এই লিগ্যাসি (উত্তরাধিকার) রেখে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে স্কালোনি বলেন, ‘একেই বলে লিগ্যাসি। আমরা এটাই চাই, যেন আগামীকাল ওই শিশুটি বা সেখানে উপস্থিত সবাই ভাবতে পারে যে— তারাও একদিন এখানে আসতে পারবে এবং এই ছেলেদের মতোই নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতে পারবে। শেষ পর্যন্ত, জাতীয় দলের হয়ে খেলার মূল অর্থ এটাই।’
