২১ বছরের অপেক্ষা এবং একটি ছেলের নীরব প্রতিজ্ঞা!
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এই ট্র্যাজেডির সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৭ সালের এক ম্যাচে। লিডস ইউনাইটেডের আলফি হালান্ডকে ফাউল করতে গিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক রয় কিন নিজেই লিগামেন্ট ছিঁড়ে মাঠে পড়ে যান। আলফি ভেবেছিলেন কিন হয়তো অভিনয় করছেন, তাই তিনি কিনের ওপর দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠে দাঁড়াতে বলেন। রয় কিন সেই অপমান ভোলেননি।
চার বছর পর, ২০০১ সালের ডার্বিতে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সি পরা আলফিকে পেয়ে রয় কিন হিংস্রভাবে বুট উঁচিয়ে সরাসরি তার হাঁটুতে লাথি মারেন। লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে মাটিতে পড়ে থাকা যন্ত্রণাকাতর আলফির দিকে তাকিয়ে কিন গালি দিয়ে বলেছিলেন, 'আর কখনো আমার ওপর দাঁড়িয়ে অভিনয় করবি না!' নির্মম সেই আঘাত শেষ করে দিয়েছিল এক ফুটবলারের ক্যারিয়ার।
মাত্র এক বছর বয়সে ছোট্ট এরলিং হয়তো বোঝেনি, কেন তার বাবার ফুটবল ক্যারিয়ারটা এভাবে মাঝপথে থমকে গেল। কিন্তু বড় হতে হতে সে প্রতিদিন দেখেছে এক ভাগ্যাহত বাবার নীরব দীর্ঘশ্বাস। যে ফুটবল মাঠ থেকে তার বাবাকে প্রায় পঙ্গু করে বিদায় দেওয়া হয়েছিল, সেই মাঠেই ফেরার প্রতিজ্ঞা তীব্র হচ্ছিল কিশোর এরলিংয়ের বুকে। অন্য বাচ্চারা যখন রূপকথার গল্প শুনছিল, এরলিং তখন নিজের রক্তে মেশাচ্ছিল এক নীরব প্রতিশোধের আগুন।
সময়ের নিয়মে বড় বড় সব ক্লাব টাকার পাহাড় নিয়ে তার দরজায় দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এরলিংয়ের লক্ষ্য ছিল একটাই। ঠিক ২১ বছর পর, সে ফিরে এলো সেই ম্যানচেস্টারে। যে শহরের বুকে তার বাবাকে অন্যায়ভাবে ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই শহরের বুকেই সে পা রাখলো এক অপ্রতিরোধ্য ত্রাস হয়ে। এটা কেবল কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া ছিল না, এটা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এক পারিবারিক ট্র্যাজেডির জবাব।
আজ যখন ইতিহাদের আকাশে ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের গান ওড়ে, তখন গ্যালারিতে বসে থাকা ওই বৃদ্ধ বাবা চোখ মোছেন গোপনে। ওরা আলফির পা ভেঙেছিল, কিন্তু হালান্ড বংশের রক্তকে থামাতে পারেনি। বাবার অপূর্ণ স্বপ্নগুলোকে ট্রফির পর ট্রফি দিয়ে রাঙিয়ে দিয়ে ছেলে আজ যেন চিৎকার করে বলছে, 'বাবা, ওরা তোমাকে থামিয়েছিল, কিন্তু দেখো, আজ তোমার অসমাপ্ত সাম্রাজ্যে আমি রাজত্ব করছি।' এটাই এক লড়াকু ছেলের, এক ভাগ্যাহত বাবার জন্য নেওয়া শ্রেষ্ঠতম প্রতিশোধ।
