৩৯ দিনের বিশ্বকাপে ফিফার রাজস্ব ২ লাখ কোটি টাকার বেশি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ফাইল ছবি
মাঠে বিশ্বকাপ জিতবে একটি দেশ। তবে আর্থিক লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় জয়টি পেতে যাচ্ছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় চলমান বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটির রাজস্ব দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ৩৯ দিনের এই বিশ্বকাপ থেকে সংস্থাটি ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ রাজস্ব পেতে পারে। মার্কিন মুদ্রায় অঙ্কটি প্রায় ১৬ দশমিক ০৮ থেকে ১৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় ফিফার সম্ভাব্য রাজস্ব দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ২০০ কোটি থেকে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ অঙ্কটি প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লু স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হিসাব জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া অর্থ পরবর্তী চার বছরে ফুটবলে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ইনফান্তিনোর ভাষায়, এই আর্থিক ফলাফল ফিফার জন্য ‘বেশ সন্তোষজনক’।
এটি অবশ্য ফিফার নিট লাভ নয়। সম্প্রচারস্বত্ব, বিপণন ও পৃষ্ঠপোষকতা, টিকিট, আতিথেয়তা প্যাকেজ এবং লাইসেন্সিং থেকে পাওয়া সম্ভাব্য মোট রাজস্বের হিসাব। বিশ্বকাপ আয়োজন, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্য অর্থ, পরিচালন ব্যয় এবং ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ এর থেকে বাদ যাবে।
এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। ম্যাচের সংখ্যাও ৬৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৪। তিন দেশে ছড়িয়ে থাকা দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় বেশি ম্যাচ মানে অতিরিক্ত সম্প্রচারস্বত্ব, পৃষ্ঠপোষকতা এবং টিকিট বিক্রির সুযোগ। উত্তর আমেরিকার বড় বাণিজ্যিক বাজারও ফিফার আয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা হয়েছে। তবে সেই মূল্য নির্ধারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইনফান্তিনো। তার দাবি, স্টেডিয়ামগুলোর আসন ব্যবহারের হার এরই মধ্যে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিযোগিতা শেষে তা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের বাজারে কিছু টিকিট মূল দামের চার থেকে পাঁচ গুণে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি। এটিকেই টিকিটের চাহিদা এবং মূল্য নির্ধারণ সঠিক হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
ফিফার সংশোধিত বাজেটে পুরো ২০২৩ থেকে ২০২৬ বাণিজ্যিক চক্রের রাজস্ব লক্ষ্য আগে ১৩ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর দেওয়া নতুন হিসাব সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে এটি এখনো একটি পূর্বাভাস। প্রতিযোগিতা শেষে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত রাজস্ব ও লাভের অঙ্ক জানা যাবে।
