আজ রাতে স্পেন-ফ্রান্স লড়াইয়ে ফাইনালের টিকিট কার?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। শিরোপা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুই দলই মাঠে নামবে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। নকআউট পর্বে তারা পরপর হারিয়েছে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামকে। অন্যদিকে ফ্রান্সও দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছে। রাউন্ড অব সিক্সটিনে প্যারাগুয়েকে সহজেই হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে দুই প্রজন্মের দুই তারকার লড়াই। ফ্রান্সের আক্রমণের প্রধান ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার গতি, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল ইতোমধ্যেই নিজের ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ডান প্রান্তে তার উপস্থিতি ফ্রান্সের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মাঝমাঠের দখল, উইং দিয়ে আক্রমণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক- এই তিন বিভাগেই দুই দলের মধ্যে জমে উঠতে পারে মূল লড়াই। স্পেনের শক্তি তাদের বল দখলে রেখে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ে তোলা। বিপরীতে ফ্রান্স প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
বিশ্বকাপে স্পেন ও ফ্রান্সের আগের দেখাগুলোও ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দলই একে অপরকে পরাজিত করেছে। ফলে অতীতের পরিসংখ্যান কোনো দলকেই স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখছে না।
ফুটবল বিশ্লেষক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বিভিন্ন পূর্বাভাসেও ম্যাচটিকে পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম কঠিন লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক পূর্বাভাসে স্পেনকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও ব্যবধান খুবই কম। কারণ ফ্রান্সের বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং স্পেনের দলগত ফুটবল। দুটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্পেন যদি শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে নিজেদের ছন্দে খেলতে পারে, তাহলে ফ্রান্সকে চাপে ফেলতে পারে। তবে এমবাপ্পেদের দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক সফল হলে ম্যাচের চিত্র মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। তাই নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফল না এলে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারেও গড়াতে পারে এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল।
শুধু ফাইনালের টিকিট নয়, এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনও। একদিকে স্পেনের পাসিংভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত ফুটবল, অন্যদিকে ফ্রান্সের গতিনির্ভর আক্রমণাত্মক কৌশল। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠবে কোন দল, তার উত্তর মিলবে আজ রাতেই।
