সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ছবি : সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির জানিয়েছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টায় রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা। পাশাপাশি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মাইকযোগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও এরশাদের বিভিন্ন সময়ের ভাষণ প্রচার করা হবে।
এ ছাড়া বেলা ১১টায় রংপুর নগরীর দর্শনাস্থ পল্লী নিবাসে অবস্থিত এরশাদের সমাধিস্থলে কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাষণ প্রচার এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
আরো পড়ুন : সংসদ থেকে ফের বিরোধীদলের ওয়াকআউট
উল্লেখ্য, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় নয় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ সময়ে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা, শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে নির্ধারণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ এবং উপজেলা ব্যবস্থা চালুর কৃতিত্বও তার সঙ্গে যুক্ত।
এ ছাড়া তার শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ওষুধ নীতি প্রণয়ন, ঢাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত আজও আলোচিত।
১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বৃহত্তর রংপুর জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। সাবেক সেনাপ্রধান হলেও মৃত্যুর পর ভক্ত-সমর্থকদের দাবির মুখে তাকে রংপুরের পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয়।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে রংপুরে চলে আসেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই, ৯০ বছর বয়সে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
