বিশ্বকাপের প্যানেল থেকে বাদ পড়া রেফারির রহস্যজনক মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দুই দিন আগেও গো অ্যাহেড ইগলস ও আপোলন লিমাসলের মধ্যকার একটি প্রীতি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। অথচ আজ নেদারল্যান্ডসের ছোট্ট শহর বোরকুলোতে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হলো তার মরদেহ।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন ডাচ ফুটবলের পরিচিত রেফারি রব ডিপেরিঙ্ক। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
এক শোকবার্তায় কেএনভিবি বলেছে, রেফারি রব ডিপেরিঙ্কের মৃত্যুর খবরে আমরা স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। ফুটবল অঙ্গন একজন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ রেফারিকে হারিয়েছে। এর চেয়েও বড় কথা, আমরা হারিয়েছি একজন অসাধারণ ও নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে।
সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে চলতি ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার কথা ছিল ডিপেরিঙ্কের। তবে বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে রেফারিদের প্যানেল থেকে বাদ দেয় ফিফা।
গত এপ্রিলে লন্ডনের ক্রয়ডনে এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ডিপেরিঙ্ককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
আরো পড়ুন : আজ রাতে স্পেন-ফ্রান্স লড়াইয়ে ফাইনালের টিকিট কার?
পরে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল ডিভাইস ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশ জানায়, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে মামলাটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে তদন্তও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ ওঠার পর থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন ডিপেরিঙ্ক। তদন্ত শেষ হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, আমি গভীরভাবে মর্মাহত যে আমাকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ফিফা, উয়েফা ও কেএনভিবিকে সব বিষয়ে অবহিত করেছি।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মিললেও ফিফা তাকে বিশ্বকাপের রেফারিদের তালিকায় পুনর্বহাল করেনি। সেই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে ডিপেরিঙ্ক বলেছিলেন, বিশ্বকাপে ফিরতে না পারায় আমি ভীষণ হতাশ।
রব ডিপেরিঙ্ক ২০১৭ সাল থেকে নেদরল্যান্ডসের শীর্ষ লিগ এরেডিভিসিতে রেফারির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ২০২৪ ইউরোতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এরেডিভিসিতে মোট ৮৪টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ডিপেরিঙ্ক। আর পরশু রাতে গো অ্যাহেড ইগলস ও আপোলন লিমাসলের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।
