গোল্ডেন বুটের সমীকরণ বদলাতে পারে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ পর্বে এসে বাকি আছে আর মাত্র দুটি ম্যাচ। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের আগে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। যদিও ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেলের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব খুব বেশি নয়। আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তিনি স্পষ্টই বলেছেন, তার দলের লক্ষ্য ছিল শুধুই ফাইনালে ওঠা।
টুখেল বলেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না, ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল।’
তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচটি অন্য কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাইজমানির বাইরে এই ম্যাচের গোলও যুক্ত হবে গোল্ডেন বুটের হিসাবের সঙ্গে। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের দৌড়ে এখনো টিকে আছেন ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের চার তারকা—কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও উসমান দেম্বেলে।
বর্তমানে আট গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন এমবাপ্পে। তবে চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সাত গোল করে তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিলেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। কিন্তু তার দল বিদায় নেওয়ায় গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন ছয়টি করে গোল নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল করেছেন পাঁচটি করে গোল। ফলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড কোচরা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কতটা শক্তিশালী একাদশ নামান, তার ওপরও নির্ভর করবে গোল্ডেন বুটের চূড়ান্ত লড়াই।
আরো পড়ুন : ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচসহ টিভিতে যা দেখবেন আজ
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বহুবার গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচে ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট সেমিফাইনালের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন। সেই ম্যাচে গোল্ডেন বুটজয়ী হ্যারি কেইন খেললেও গোল করতে পারেননি।
এর আগেও একাধিক ফুটবলার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেছেন। ২০১০ সালে জার্মানির থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকার, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস—তারা সবাই এই ম্যাচে গোল করেই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের পথে এগিয়ে যান।
এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রেগর লাতো, ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাদের ক্ষেত্রে ওই ম্যাচে গোল না করলেও গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ ছিল। এবারও ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচের পারফরম্যান্সই ঠিক করে দিতে পারে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার ভাগ্য।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যারা আছেন:
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট
আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে) — ৭ গোল
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড) — ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) — ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) — ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন) — ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
