গাজায় জানাজার শোভাযাত্রায় হামলা, নিহত ১৪
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। এসব হামলায় আরো অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা ও আল-আওদা হাসপাতালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। খবর আলজাজিরার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি ইসরায়েলি ড্রোন সেখানে হামলা চালায়। নিহত ব্যক্তিরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক এক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা দাবি করেছে, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
আরো পড়ুন : ইরানের কাছে আরও অর্থ-সমরাস্ত্র সহায়তা চেয়েছে হামাস
অন্যদিকে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে।
এদিন গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে চালানো হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারীরও মৃত্যু হয়েছে।
যদিও গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে এসব হামলার সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মাসে ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ।
এদিকে ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
