×

ফুটবল

আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়ে দৃষ্টি গোল্ডেন বুটের ওপরও

Icon

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়ে দৃষ্টি গোল্ডেন বুটের ওপরও

বিশ্বকাপে এমন একটি ম্যাচ আছে, যেটিকে অনেকেই বলেন ‘যে ম্যাচ কেউ খেলতে চায় না’। কারণ, এই ম্যাচে ওঠার অর্থই হলো- ফাইনালের ঠিক এক ধাপ আগে স্বপ্নভঙ্গ। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কখনোই পুরোপুরি গুরুত্বহীন নয়। এখানে জড়িয়ে থাকে আত্মসম্মান, ইতিহাস, পরিসংখ্যান, ব্যক্তিগত অর্জন এবং শেষ হাসি হাসার সুযোগ। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম নয়। আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

দুই দলই এসেছিল শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে। ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ইংল্যান্ডও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু শেষ চারের লড়াইয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হারে ফ্রান্স, আর আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হার মানে ইংল্যান্ড। ফলে ফাইনালের আলো থেকে সরে এসে এখন তাদের লড়াই তৃতীয় স্থান নিয়ে।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল সংবাদ সম্মেলনে অকপটভাবেই বলেছেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল।’ তার কথায় ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা। তবু বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই মাঠে নামতে হবে। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই ইতিহাসের অংশ।

তবে এই ম্যাচকে কেবল হতাশার প্রতীক ভাবলে ভুল হবে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থানও কম মর্যাদার নয়। ফুটবল ইতিহাসে বহু দল তৃতীয় হয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযানকে স্মরণীয় করেছে। অনেকের কাছে এটি ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তিও হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মতো দলের জন্য, যারা ১৯৬৬ সালের পর আবারো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে, কিংবা ফ্রান্সের মতো দলের জন্য, যারা টানা তিন বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে- তাদের কাছে জয় মানে শুধু একটি পদক নয়, একটি ইতিবাচক সমাপ্তিও।

২০২৬ বিশ্বকাপে দুই দলের পথচলাও ছিল দারুণ। ফ্রান্স ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগগুলোর একটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসেরা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলেছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ছিল ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতা, জুড বেলিংহামের সৃজনশীলতা এবং তরুণদের গতিময় ফুটবল দলটিকে শেষ চার পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়েও ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে লিওনেল মেসির দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্টে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

এই ম্যাচের আরেকটি বড় আকর্ষণ গোল্ডেন বুটের লড়াই। অনেক দর্শক হয়তো জানেন না, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও বিশ্বকাপের মোট গোলের হিসাবেই যোগ হয়। ফলে গোল্ডেন বুট নির্ধারণে এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক। বর্তমানে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে সমান ৮ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় আপাতত মেসি এগিয়ে। কিন্তু এমবাপ্পের সামনে আরো একটি ম্যাচ রয়েছে। একইভাবে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামও এখনো দৌড়ে আছেন। অর্থাৎ মিয়ামির এই ম্যাচ শুধু তৃতীয় স্থান নয়, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারের ভাগ্যও অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন নজির নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে ডেভর সুকর, ২০১০ সালে টমাস মুলার, ১৯৯০ সালে সালভাতোরে শিলাচি- তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। অর্থাৎ যে ম্যাচকে অনেকে গুরুত্বহীন বলেন, সেই ম্যাচই কখনো কখনো ব্যক্তিগত ইতিহাস বদলে দেয়।

ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলের দায়িত্ব পালন করা দিদিয়ের দেশমের এটি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল দলে পরিণত করেছেন। বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়ে অধ্যায়ের ইতি টানতে চাইবেন তিনি। অন্যদিকে টমাস টুখেলের সামনে সুযোগ থাকবে ইংল্যান্ডকে অন্তত একটি পদক এনে দেয়ার।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইও বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি খুব বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি না হলেও প্রতিবারই লড়াই হয়েছে মর্যাদার। ইংল্যান্ডের শারীরিক শক্তি, গতি ও সেট-পিসের বিপরীতে ফ্রান্সের টেকনিক, কাউন্টার অ্যাটাক ও ব্যক্তিগত দক্ষতার দ্বৈরথ আবারো দেখা যাবে মিয়ামিতে। মাঝমাঠে বেলিংহাম ও ফরাসি মিডফিল্ডের লড়াই, আর সামনে কেইন ও এমবাপ্পের উপস্থিতি ম্যাচটিকে বাড়তি মাত্রা দেবে।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক বহু দিনের। কেউ বলেন, এই ম্যাচের দরকার নেই। আবার কেউ মনে করেন, ৪ বছরে একবার আসা এই আসরে শেষ পর্যন্ত লড়ে তৃতীয় হওয়াও বড় অর্জন। বাস্তবতা হলো, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থানেরও আলাদা মর্যাদা আছে। পরিসংখ্যানের খাতায় দ্বিতীয় ও চতুর্থ নয়, তৃতীয় দলটির নামই থেকে যায় বিজয়মঞ্চে।

তাই মিয়ামির এই ম্যাচকে কেবল ‘সান্ত¡না পুরস্কারের লড়াই’ বললে ভুল হবে। এটি অপূর্ণতার মধ্যেও প্রাপ্তির সন্ধান। এটি ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর গল্প। এটি ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার শেষ সুযোগ। আর একইসঙ্গে এটি গোল্ডেন বুট, ব্যক্তিগত রেকর্ড ও বিদায়ী গৌরবের মঞ্চ।

ফাইনালের আলো হয়তো আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে ঘিরে। কিন্তু তার আগে বিশ্বকাপের শেষ প্রাক্-অধ্যায়ে চোখ থাকবে মিয়ামিতেও। কারণ, যে দলটি জিতবে, তারা শুধু তৃতীয় স্থানই পাবে না-হতাশার বিশ্বকাপকে অন্তত সম্মানের হাসি দিয়ে বিদায় জানাতে পারবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫,০৬৯

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫,০৬৯

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়ছে বেলজিয়াম, ১৫ দিনে ২০০০ জনের মৃত্যু

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়ছে বেলজিয়াম, ১৫ দিনে ২০০০ জনের মৃত্যু

দুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে তাণ্ডব চালাবে ঝড়

দুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে তাণ্ডব চালাবে ঝড়

গোল্ডেন বুটের সমীকরণ বদলাতে পারে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ

গোল্ডেন বুটের সমীকরণ বদলাতে পারে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App