সরকারি নীতিমালায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-সুবিধা নির্ধারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকার সম্প্রতি মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।
এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। চূড়ান্তকরণের আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা, ইমাম ও খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালায় খতিব ব্যতীত দেশের মসজিদে কর্মরত সকল জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মসজিদ বা পাঞ্জেগানা মসজিদে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
আরো পড়ুন : একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়: গভর্নর
নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমামকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ইমামকে ৯ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে ১০ম, মুয়াজ্জিনকে ১১তম, প্রধান খাদিমকে ১৫তম এবং খাদিমকে ১৬তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত জনবলের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, মাসিক সঞ্চয় ও চাকরি সমাপনান্তে এককালীন সম্মাননা প্রদানের বিধানও রাখা হয়েছে। কর্মীদের ছুটি নিয়ন্ত্রণে প্রতিমাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি, প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটি এবং পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটির সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য মসজিদে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা যাবে না। এছাড়া নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বসহ চাকরি সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নারীদের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা কম-বেশি করা যাবে।
যদি নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও থাকবে। এই নীতিমালার জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
