হাম সংক্রমণে ৭০০ ছাড়াল প্রাণহানি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারোর মৃত্যু হয়নি। এই ৬ শিশুর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জন, ঢাকা বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন শিশু।
হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ শিশু। এ সময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭৪৪। সবমিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ জন।
চলতি বছর হামে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২ এপ্রিল থেকে হামের তথ্য গণমাধ্যমে পাঠাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ শিশু। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশুর প্রাণ গেছে। এ পর্যন্ত হাম ও এই রোগে উপসর্গ রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ২৬৬ জন। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ জন, যাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের উপসর্গ নিয়ে বা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ও মৃতের তথ্য প্রকাশ করছে। তবে কোন বয়সের, কোন আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষ তারা, হামে আক্রান্ত হওয়ার কত দিন পর তাদের মৃত্যু হচ্ছে, মৃত্যুর আগে তাদের কোন ধরনের চিকিৎসা হয়েছিল-তার কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
