গণপিটুনির শিকার যুবক, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি বাসায় ধারালো অস্ত্রসহ ডাকাতি বা লুটপাটের চেষ্টা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। এ সময় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে গুরুতর আহত জাহিদ (৩৮) নামে এক যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত জাহিদের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার মহেশখালী গ্রামে। বাবার নাম জয়নাল হাজী।
আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়ামিন সরকার বলেন, ‘জাহিদ থাকতেন শ্যামলী হাউজিং ২য় প্রকল্প এলাকার ফার্ম গলিতে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে দুটি চাপাতি নিয়ে একই গলির খোরশেদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকেন তিনি। সেই ঘরের ফার্নিচার, আসবাবপত্র কুপিয়ে নষ্ট করে এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। খোরশেদকে অস্ত্র হাতে দৌড়ানি দেন। এরপর ঘর থেকে ৩০ হাজার টাকা লুট করেন তিনি। তখন এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে জাহিদকে ধরে গণপিটুনি দেন। পরে থানায় খবর দিলে সেখান থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।’
এসআই জানান, ‘আদাবর থানার ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শেষে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। তবে কোর্টের হাজাতখানায় ঢুকানোর আগে সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে নেয়া হয় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখন চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীকালে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।’
মো. ইয়ামিন আরো বলেন, ‘জাহিদ মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও বিভিন্নজনের ওপর হামলা করেন তিনি। থানায় মামলাও রয়েছে। এলাকার লোকজন তার প্রতি অতিষ্ঠ ছিল বলে জানা গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
