ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি কর্মঘণ্টায় রাজধানীর পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় এক সরকারি চিকিৎসককে হাতেনাতে আটক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে ওই চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে রোগী দেখার সময় আটক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে অফিস চলাকালে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম করে আসার অভিযোগে ডা. মইনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে চিকিৎসা সনদ (লাইসেন্স) বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি দপ্তর থেকেও ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেটিকে গুরুত্ব দেননি।
একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকেও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
অভিযান চলাকালে ক্লিনিকটির নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির (রেজিগনেশন) কোনো কাগজপত্র কিংবা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রতিষ্ঠানটির কাছে সংরক্ষিত নেই। এ বিষয়টি নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপককে (ম্যানেজার) তীব্র ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো সরকারি চিকিৎসক অন্য কোথাও চাকরি বা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে চাইলে তার পদত্যাগপত্র এবং অনাপত্তিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু চিকিৎসকের মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া আইনসম্মত নয়। মুনাফার আশায় এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করাই তাদের ভুল ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু কোনো চিকিৎসক যদি সরকারি দায়িত্ব পালন না করে কর্মঘণ্টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান—উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
